বিশ্বে প্রথম অনুমোদন পেল এমআরএনএ ফ্লু টিকা

বিশ্বে প্রথম করোনাভাইরাসের টিকার পর এবার ইনফ্লুয়েঞ্জার বিরুদ্ধেও এমআরএনএ প্রযুক্তির টিকা অনুমোদন পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নার তৈরি এ টিকার নাম ‘এমফ্লুসিভা’। মূলত প্রবীণদের জন্য টিকাটি তৈরি করা হয়েছে।

এমফ্লুসিভায় মেসেঞ্জার আরএনএ বা এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের দাবি, প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় নতুন এই টিকা শরীরে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একাধিক ধরনের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য টিকাটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্যও এর অনুমোদন চাওয়া হয়েছে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ গুরুতর রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এসব রোগ কখনো প্রাণঘাতীও হয়ে ওঠে। ফলে এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এমফ্লুসিভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।

ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় এমফ্লুসিভা প্রচলিত ফ্লু টিকার তুলনায় ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে বেশি কার্যকর বলে দাবি করা হয়েছে। মডার্নার তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাসটির একাধিক ধরন থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও টিকাটি কার্যকর।

করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির সময় বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি পায় এমআরএনএ প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীরের কোষকে নির্দিষ্ট ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধেও এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা শুরু হয়।

প্রবীণদের মধ্যে নিউমোনিয়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। ভারতের দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের (এমস) এক গবেষণায় দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীরা নিউমোনিয়ায় বেশি আক্রান্ত হন। এ দুই বয়সী গোষ্ঠীর মধ্যে মৃত্যুঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি।

গবেষকদের মতে, এমআরএনএ প্রযুক্তির ফ্লু টিকাটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে প্রবীণদের ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ বিভিন্ন ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে গুরুতর সংক্রমণ ও হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তাও কমাতে পারে নতুন এই টিকা।