নভেম্বরের মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ চিকিৎসক নিয়োগ

স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি ও কাঠামোগত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ২০ নভেম্বরের মধ্যে নতুন চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত কর্মশালায় এ কথা জানান তিনি।

অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, ৩ হাজার ৫০০ চিকিৎসকের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ চিকিৎসককে আমরা প্রাইমারি হেলথ কেয়ারে দিতে পারবো। চিকিৎসকের যে বিরাট ঘাটতি রয়েছে, সেটা অনেকটা ঘাটতি পূরণ হবে। আরও পদ সৃজনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যদি ভাগ্য ভালো হয় আরও দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগের চেষ্টা করতে পারবো।

তিনি বলেন, দেশে অনুমোদিত ১ লাখ ৪৫ হাজার চিকিৎসক রয়েছে এবং প্রায় ৫১ হাজার শিক্ষার্থী চিকিৎসক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ৬-৭ বছরের মধ্যে চিকিৎসকের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। এখন ১ লাখ ১০ হাজার নার্স ভর্তি অবস্থায় রয়েছে। ৩২ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিবছর নার্সিংয়ে ভর্তি হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসক-নার্সের ঘাটতি পূরণ করতে বেশি দিন লাগবে না।

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে বলে কিছু থাকতে না, এটা একটা পরিপূর্ণ হাসপাতাল হবে। উপজেলায় একটা অফিস হবে যেখান থেকে প্রাইমারি হেলথ কেয়ার মনিটর করা হবে। দেশে সাত হাজারের উপরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের সব হাসপাতালের সব বিশেষজ্ঞের পদ ভর্তি থাকবে, এমনকি অনেক অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপককে আমরা জেলা হাসপাতালে দিতে পারবো।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে পরিকল্পনায় বড় শূন্যতা রয়েছে। চিকিৎসকদের মধ্যে পদ সংক্রান্ত হতাশা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যেন কোনোভাবেই তারা যেন হতাশা না হয়। ডাক্তার পদোন্নতি ইতিহাসে বিরল। এবার পদের বাইরে সাত হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতি হচ্ছে। আরো চার থেকে পাঁচশত চিকিৎসকের পদোন্নতি হবে। চিকিৎসকদের পদোন্নতির বিষয়টা আগামী ৫-৭ বছরের জন্য সমাধান করা হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ৯৪০ জনকে জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ সেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে। সহকারী অধ্যাপকদের বড় একটা অংশ জেলা হাসপাতালে কাজ করবে, যেখানে মেডিকেল কলেজ নেই।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে স্বাস্থ্য পলিসি শক্তিশালী করতে হবে। একইসঙ্গে বাজেট ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সমানহারে থাকতে হবে। স্বাস্থ্যে নানা শূন্যতা রয়েছে এবং পদ ফাঁকা রয়েছে। তবুও নিজেদের মধ্যে কাজ করার আন্তরিকতা বৃদ্ধি করতে হবে।

তিনি বলেন, মানবসম্পদকে আরো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন। প্রান্তিক পর্যায়ে ঢেলে সাজাতে হবে। পুরো সিস্টেমকে সংস্কার করতে কমিশন হয়েছিল, নানা সুপারিশ দেয়া হয়েছে। সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, আমাদেরকে আরো কাজ করতে হবে। দেশের স্বাস্থ্যখাতকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে চাই। সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপ-সচিব (এইচআর) ডা. মো. শেখ সাদেক। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ, নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউল ইসলাম ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহযোগী ডা. শাহানা সুলতানাসহ প্রমুখ।