সঠিক সময় ও খাবারের তালিকা না মানলে বাড়বে স্বাস্থ্য ঝুঁকি

ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি হলো সুশৃঙ্খল জীবনযাপন। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে সকালের নাস্তা বা ব্রেকফাস্ট করা অপরিহার্য। অনেক রোগী ওজন কমানোর আশায় বা অলসতাবশত সকালে খাবার খান না অথবা দেরিতে খান, যা শরীরে মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন নাস্তা বাদ দেওয়া ?
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকলে শরীরে ইনসুলিনের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করতে থাকে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তারা সময়মতো নাস্তা না করলে রক্তে সুগার হঠাৎ কমে গিয়ে ‘হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ হতে পারে। এটি রোগীর জন্য তাৎক্ষণিক বিপদের কারণ হতে পারে। এছাড়া অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, চোখের সমস্যা এবং কিডনি জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

নাস্তা করার আদর্শ সময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত সকাল ৮টার মধ্যে নাস্তা সেরে ফেলা। পরিস্থিতির প্রয়োজনে বড়জোর সকাল ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করা যেতে পারে। তবে সকাল ১০টা বা ১১টার পর নাস্তা করলে তা উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করে। এছাড়া রাতের খাবারের অন্তত দুই ঘণ্টা পর একটি মাঝারি মানের ফল খাওয়া সুগার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

সকালের খাদ্যতালিকায় যা রাখবেন ও যা বর্জন করবেন

বর্জনীয় খাবার: পরোটা, সাদা পাউরুটি বা অতিরিক্ত ময়দাযুক্ত খাবার দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দেয়। তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

গ্রহণযোগ্য খাবার: ওটস বা আঁশসমৃদ্ধ লাল আটার রুটি খাওয়া ভালো, কারণ এগুলো ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করা হঠাৎ বাড়তে দেয় না।

প্রোটিনের গুরুত্ব: নাস্তায় উন্নত মানের প্রোটিন যেমন—ডিম, মাছ বা চিকেন রাখা উচিত। এগুলো পেট ভরা রাখার পাশাপাশি সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

খাওয়ার পর সামান্য শরীরচর্চা
নাস্তা শেষ করার পর কেবল বসে না থেকে অন্তত ১০ মিনিট হাঁটাচলা করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সময় স্বল্পতা থাকলে ঘরের ভেতরেই কয়েক মিনিট হালকা ব্যায়াম বা স্কোয়াট করা যেতে পারে। এই শারীরিক নড়াচড়া শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহারে সহায়তা করে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়।

পরিশেষে, চিকিৎসকদের মতে—সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ওষুধ এবং পরিমিত ব্যায়াম—এই তিনটি বিষয়ের সমন্বয়ই ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ জীবনের মূল ভিত্তি।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে