জাপানে নতুন ট্রেন্ড

মাথা ও ঘাড়ের মাপে তৈরি হয় বালিশ!

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম

ঘুমানোর সময় বালিশটা একটু উঁচু হলে ঘাড়ে অস্বস্তি, আবার বেশি নিচু হলে মনে হয় মাথাটা ঠিকমতো সাপোর্ট পাচ্ছে না। অনেকেই বছরের পর বছর নিজের জন্য ‘ঠিকঠাক’ বালিশ খুঁজতে থাকেন। কিন্তু যদি বালিশ কেনার সময় আপনাকেই শুইয়ে, মাথা ও ঘাড়ের আকৃতি মেপে সেটি তৈরি করে দেওয়া হয়, তাহলে কেমন হয়?

জাপানে কাস্টম বালিশ তৈরির একটি ভিডিওতে এমনই অভিনব প্রক্রিয়া দেখা গেছে। সেখানে বালিশ কেনা শুধু দোকান থেকে পছন্দের একটি পণ্য বেছে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং ক্রেতার শরীরের গঠন, মাথা ও ঘাড়ের মাপ এবং ব্যক্তিগত আরামের কথা বিবেচনা করে তৈরি করা হয় বালিশটি।

প্রথমেই পছন্দের নরম-শক্ত ভাব

কাস্টম বালিশ নিতে আসা ক্রেতাকে প্রথমে বিভিন্ন ধরনের ফিলিং স্পর্শ করে দেখতে দেওয়া হয়। যেখানে কোনটি বেশি নরম, কোনটি তুলনামূলক শক্ত সেটি নিজের অনুভূতি অনুযায়ী বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

তবে অধিকাংশ ক্রেতাই যে ফিলিংটি বেছে নেন, সেটির নাম ‘অ্যাঞ্জেল ফ্লোট’। এটি তুলনামূলক নরম ধরনের ফিলিং। তবে এখানেই শেষ নয়। এরপর ক্রেতাকে স্বাভাবিকভাবে দাঁড় করিয়ে ছবি তোলা হয়। সেই ছবির মাধ্যমে মাথা ও ঘাড়ের গঠন ও অবস্থান বিবেচনা করা হয়।

বিশেষ করে ঘাড়ের যে অংশটি তুলনামূলকভাবে নিচু, সেটি বালিশ দিয়ে পূরণ করার প্রয়োজন হয়। ফলে সবার জন্য একই উচ্চতার বালিশ না বানিয়ে ব্যক্তির শরীরের গঠনের সঙ্গে মিলিয়ে বালিশের উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ, বালিশটি শুধু মাথার নিচে রাখার জন্য নয় মাথা ও ঘাড়ের মাঝের স্বাভাবিক অবস্থানটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

শুয়ে শুয়ে পরীক্ষা

বালিশের প্রাথমিক উচ্চতা ঠিক করার পর শুরু হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ব্যবহার করে দেখা। ক্রেতাকে বালিশে শুইয়ে প্রথমে একদিকে, পরে অন্যদিকে ঘুরে দেখতে বলা হয়। কারণ একজন মানুষ শুধু চিৎ হয়ে ঘুমান না; ঘুমের মধ্যে পাশও পরিবর্তন করেন।

প্রথমবার বালিশটি ব্যবহার করে ক্রেতার মনে হয়, এটি তার নিয়মিত বালিশের তুলনায় কিছুটা নিচু। তখন আবার শুরু হয় সমন্বয়ের কাজ।

বালিশের উচ্চতা পরিবর্তন করে আবার শুইয়ে দেখা হয়। এবার ক্রেতার অনুভূতিও বদলায়। এক পাশ থেকে অন্য পাশে ঘুরে দেখার পর তিনি জানান, পরিবর্তন করা উচ্চতাটি তুলনামূলকভাবে বেশি আরামদায়ক লাগছে।

‘পছন্দ হয়েছে’ বললেই শেষ নয়

কাস্টম বালিশের এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, ক্রেতা বালিশ পছন্দ করার পরও সেটিকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া হচ্ছে না।

নতুন বালিশে আবার পরীক্ষা করে দেখা হয়। বেশি উঁচু মনে হলে বা অন্য কোনো জায়গায় অস্বস্তি থাকলে সেটি তখনই পরিবর্তন করার সুযোগ থাকে।

অর্থাৎ, বালিশটি তৈরি করার আগে শুধু মাপ নেওয়া নয়, ব্যবহারকারীর অনুভূতিকেও প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ক্রেতার পছন্দও শেষ পর্যন্ত পরিষ্কার হয়ে যায় তিনি এই বালিশটিই নিতে চান।

বালিশেরও কি ‘সঠিক দিক’ আছে?

বালিশ তৈরির পর সেটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটিও বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওতে দেখানো হয়, বালিশের এক পাশে জিপার রয়েছে এবং ভেতরের অংশ নির্দিষ্ট দিক অনুযায়ী রাখতে হবে। ঘাড় ও কাঁধের দিকের সঙ্গে মিল রেখে বালিশের ভেতরের অংশ সঠিকভাবে স্থাপন করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়।

অর্থাৎ, শুধু বালিশ বানিয়ে দেওয়াই শেষ কাজ নয়; সেটি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

বালিশ কেনার ধারণাটাই বদলে দিচ্ছে এই পদ্ধতি

আমরা সাধারণত বালিশ কিনি আকার, নরম-শক্ত ভাব কিংবা পছন্দের ব্র্যান্ড দেখে। কিন্তু এই কাস্টমাইজড পদ্ধতিতে প্রশ্নটা একটু ভিন্ন, 'বালিশটি আপনার পছন্দের কি না, তার পাশাপাশি এটি আপনার শরীরের সঙ্গে মানানসই কি না।'

মাথা ও ঘাড়ের গঠন বিবেচনা, পছন্দের ফিলিং নির্বাচন, শুয়ে পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতা পরিবর্তন সব মিলিয়ে এখানে বালিশ কেনা হয়ে উঠছে অনেকটা ব্যক্তিগত ব্যবহারের একটি পণ্য তৈরি করার মতো।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, শেষ সিদ্ধান্তটিও ব্যবহারকারীর অনুভূতির ওপর নির্ভর করছে, 'আরাম লাগছে কি না।'

হয়তো এ কারণেই ঘুমের জন্য ব্যবহৃত একটি সাধারণ বালিশও কারও কাছে হয়ে উঠতে পারে একেবারে ব্যক্তিগতভাবে তৈরি একটি প্রয়োজনীয় জিনিস।

AM
আরও পড়ুন