পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে খাবেন যে ৫ খাবার

শরীরের কর্মক্ষমতা, পেশির গঠন এবং যৌনস্বাস্থ্য বজায় রাখতে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মদ্যপানসহ বিভিন্ন কারণে এই হরমোনের মাত্রায় পরিবর্তন আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই হরমোনের ওষুধ বা ইনজেকশন গ্রহণ করেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ কয়েকটি খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১. উদ্ভিজ্জ দুধ
সয়া, আমন্ড ও ওটস থেকে তৈরি দুধ পুষ্টির বিকল্প উৎস হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ল্যাকটোজ হজমে সমস্যা হয়, তাদের জন্য এসব পানীয় উপযোগী বিকল্প। তবে উদ্ভিজ্জ দুধ সরাসরি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ায়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। পুষ্টিগুণ বিবেচনা করে সঠিক বিকল্প বেছে নেওয়া জরুরি।

২. বেদানা
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ বেদানা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে। মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতি হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় বেদানা রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপকার হতে পারে। তবে এটি সরাসরি টেস্টোস্টেরন বাড়ায়, এমন প্রমাণ এখনো সীমিত।

৩. তেলযুক্ত মাছ
রুই, কাতলা, বোয়াল ও চিতলের মতো মাছ প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের উৎস। মাছের ধরনভেদে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও ভিন্ন হয়। এই উপাদান হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে শুধু মাছ খেলেই টেস্টোস্টেরন বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

৪. ডিম
ডিম উচ্চমানের প্রোটিনের ভালো উৎস। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পেশি গঠন ও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ডিম সহায়ক হতে পারে। তবে ডিম খাওয়ার কারণে সরাসরি টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়ে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা অনুযায়ী খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা যেতে পারে।

৫. কলা
কলা পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬ ও কার্বোহাইড্রেটের উৎস। এটি শরীরে শক্তি জোগাতে এবং স্বাভাবিক পেশির কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত ফল খাওয়ার অভ্যাস সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কলা সরাসরি টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ বাড়ায়, এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কী করবেন?
শুধু নির্দিষ্ট কিছু খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া হরমোনের ওষুধ বা ইনজেকশন ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।