ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আঙুলের সেই কালির দাগ নাগরিক দায়িত্ব পালনের এক গর্বের চিহ্ন। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই বিশেষ প্রয়োজনে যেমন অফিসের মিটিং, সামাজিক অনুষ্ঠান বা ব্যক্তিগত কারণে এই কালি দ্রুত তুলে ফেলার প্রয়োজন পড়ে। সাধারণ কালির চেয়ে ভিন্ন হওয়ায় এই দাগ সহজে উঠতে চায় না।
কেন এই কালি সহজে ওঠে না?
ভোটের কালিতে থাকে সিলভার নাইট্রেট, যা ত্বকের প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে একটি স্থায়ী দাগ তৈরি করে। এটি এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন কয়েক দিন পর্যন্ত ত্বকে টিকে থাকে। সাধারণত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক থেকে কোষ ঝরে পড়ার মাধ্যমে এই দাগ আপনাআপনি চলে যায়। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করলে এই দাগ দ্রুত ফিকে করা সম্ভব।
দাগ হালকা করার কার্যকর উপায়
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আঙুলের কালি তোলার কিছু নিরাপদ পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো:
- লেবুর রস ও বেকিং সোডা: লেবু প্রাকৃতিক ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। তুলায় লেবুর রস নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ঘষলে দাগ দ্রুত হালকা হয়। এছাড়া বেকিং সোডা ও পানির পেস্ট তৈরি করে হালকা স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- নারিকেল তেল ও লবণের মিশ্রণ: এটি বেশ কার্যকর পদ্ধতি। ১ চা চামচ নারিকেল বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে আধা চা চামচ লবণ মিশিয়ে ৩-৫ মিনিট আলতো করে মালিশ করুন। লবণ এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে কালির স্তর তুলে আনতে সাহায্য করবে।
- টুথপেস্ট: সাধারণ সাদা টুথপেস্ট (জেল নয়) আঙুলের কালিতে লাগিয়ে কিছুক্ষণ ঘষে ধুয়ে ফেললে দাগ অনেকটা ফিকে হয়ে আসে।
- নেল পলিশ রিমুভার: তুলায় অল্প রিমুভার নিয়ে কালির ওপর ঘষলে অনেক সময় দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়। তবে সবার ত্বকে এটি সমান কার্যকর নাও হতে পারে।
- সাবান ও কুসুম গরম পানি: নিয়মিত বিরতিতে কুসুম গরম পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধুলে কালির স্থায়িত্ব কমে আসে।
যা করা থেকে বিরত থাকবেন
কালি তুলতে গিয়ে কখনোই ব্লেড, শক্ত ব্রাশ বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করবেন না। এতে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।
মনে রাখবেন, এই কালি কয়েক দিনের মধ্যেই প্রাকৃতিকভাবেই উঠে যায়। তাই ত্বককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে ধৈর্য ধরাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই কালি আপনার সচেতন নাগরিক হওয়ার পরিচয় বহন করে, তাই একে নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।