ঋতু বদলের এই সময়ে গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেকেরই শরীর ও হাত-পায়ের পাশাপাশি চুলের গোড়া অতিরিক্ত ঘামার সমস্যা দেখা দেয়। ঘামে ভেজা মাথার ত্বক শুধু অস্বস্তিকরই নয়, এটি দীর্ঘক্ষণ থাকলে ছত্রাক সংক্রমণ, খুশকি, চুলকানি, এমনকি ত্বকে ব্রণ বা র্যাশের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই গরমে চুলের যথাযথ যত্ন নেওয়া অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখলে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং জট পড়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই চুল ধোয়ার পর হালকা তোয়ালে দিয়ে দ্রুত পানি শুষে নিতে হবে এবং পুরোপুরি শুকিয়ে তবেই ক্লিপ বা খোঁপায় বাঁধতে হবে। চুলের স্বাস্থ্য ফেরাতে এবং মাথার ত্বক সতেজ রাখতে ঘরে তৈরি ৪টি প্রাকৃতিক মাস্ক অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে:
১. দই, মধু ও লেবুর রসের মাস্ক
মাথার ত্বকের চুলকানি ও র্যাশ কমাতে এই মাস্কটি অতুলনীয়। আধা কাপ দইয়ের সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। দই ও লেবুর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণ মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে এবং অতিরিক্ত তেল দূর করে। সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন এটি ব্যবহার করলে চুল হবে প্রাণবন্ত ও মসৃণ।
২. কলা ও অলিভ অয়েলের মিশ্রণ
যাদের চুল রুক্ষ হয়ে যায়, তাদের জন্য কলা ও অলিভ অয়েলের মাস্ক বেশ উপকারী। একটি পাকা কলার পেস্টের সঙ্গে ১ চামচ মধু এবং ১ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ২০ মিনিট চুলে লাগিয়ে রাখুন। এটি চুলে প্রাকৃতিক ময়েশ্চার যোগ করে এবং চুলের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
৩. নিম ও লেবুর মাস্ক
খুশকি দূর করতে নিমের কোনো বিকল্প নেই। একমুঠো নিমপাতা বাটার সঙ্গে ১ চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মাথার ত্বকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। নিমের অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ ত্বককে ইনফেকশন মুক্ত রাখে এবং লেবু অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ব্যবহারে দ্রুত সুফল পাওয়া যায়।
৪. অ্যালোভেরা ও শসার হাইড্রেটিং মাস্ক
গরমের দিনে মাথার ত্বক শীতল রাখতে ২ চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে অর্ধেক শসার রস মিশিয়ে মালিশ করুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ঘামাচি বা ফুসকুড়ি কমাতে সাহায্য করে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, ফেমিনা