ড্রাই ফ্রুটসেই মিলবে ঝলমলে চুলের চাবিকাঠি

সুন্দর, মজবুত ও ঝলমলে চুল কে না চায়, চুলকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে অনেকেই দামি প্রসাধনী থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করেন, কিন্তু আশানুরূপ ফল পান না। আধুনিক জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ, পরিবেশ দূষণ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুল পড়ার সমস্যা এখন প্রায় ঘরে ঘরে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চুলের বাহ্যিক যত্নের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা অপরিহার্য। আর এক্ষেত্রে আপনার নিত্যদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু ড্রাই ফ্রুটস যোগ করলে মিলতে পারে বিস্ময়কর উপকার।

ড্রাই ফ্রুটস বা শুকনো ফল আয়রন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, প্রোটিন ও ভিটামিনের মতো অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এই উপাদানগুলো চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল পড়া কমায় এবং চুলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী ও উজ্জ্বল করে তোলে।

জেনে নিন চুলের যত্নে কোন ড্রাই ফ্রুটস সবচেয়ে কার্যকরী

Hair care

আমন্ড

ভিটামিন-ই এর চমৎকার উৎস আমন্ড বা কাঠবাদাম মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে চুলের ফলিকলগুলো পর্যাপ্ত পুষ্টি ও অক্সিজেন পায়, যা চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমন্ডে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট চুলকে শুষ্কতা থেকে বাঁচায়। সেরা ফল পেতে রাতে ভিজিয়ে রাখা আমন্ড সকালে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কাজুবাদাম

এতে থাকা আয়রন ও জিঙ্ক চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আয়রন মাথার ত্বকে অক্সিজেন সরবরাহ সচল রাখে এবং জিঙ্ক চুলের গোড়া মজবুত করে চুল ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে। চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার সমস্যায় কাজুবাদাম দারুণ কার্যকর।

আখরোট

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, বায়োটিন ও ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ আখরোট চুলকে নরম, চকচকে ও শক্তিশালী করে তোলে। এটি মাথার ত্বকের যেকোনো ধরনের প্রদাহ কমাতে এবং চুলের ফলিকলের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। সকালের নাস্তায় বা দইয়ের সঙ্গে আখরোট মিশিয়ে খেতে পারেন।

Dry fruits

খেজুর

খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফাইবার ও প্রাকৃতিক শর্করা, যা চুলের গোড়াকে মজবুত করে এবং চুল পাতলা হয়ে যাওয়া রোধ করে। এতে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড চুলের বৃদ্ধি ও গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কিশমিশ

আকারে ছোট হলেও কিশমিশ পুষ্টিগুণে ভরপুর। এটি আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের একটি দারুণ উৎস, যা মানসিক চাপ ও দূষণের কারণে চুলের যে ক্ষতি হয়, তা থেকে সুরক্ষা দেয়। কিশমিশ রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।

পেস্তা

প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং ভিটামিন বি৬-এর মতো পুষ্টি উপাদান থাকায় পেস্তা মাথার ত্বকে পুষ্টি জুগিয়ে চুলকে হাইড্রেটেড বা আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। শুষ্ক ও প্রাণহীন চুলের জন্য পেস্তা অত্যন্ত উপকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল পড়ার সমস্যায় ভুগলে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই ড্রাই ফ্রুটসগুলো যোগ করা একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, শুধুমাত্র ড্রাই ফ্রুটস খেলেই হবে না; কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাও জরুরি।