বিকেলের আড্ডায় বা কাজের ফাঁকে চায়ের কাপে চুমুক দিতেই অনেক সময় বিপত্তি ঘটে অসাবধানতায় জিভ পুড়ে যায়। এই অসহ্য যন্ত্রণা কেবল জিভেই সীমাবদ্ধ থাকে না, মুখের ভেতরের স্নায়ুগুলো কান ও মাথার সঙ্গে যুক্ত থাকায় ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। এমনকি পরবর্তী কয়েকদিন খাবারের স্বাদ পাওয়াই দায় হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত আরাম পেতে এবং সংক্রমণ রোধে কিছু কার্যকরী ঘরোয়া টোটকা কাজে লাগানো যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জিভ পুড়ে গেলে অনেক সময় ফোসকা পড়ে যায় এবং ক্ষত সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। তাই তাৎক্ষণিক সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পুড়ে যাওয়া জিভ দ্রুত সারানোর উপায়
১. ঠান্ডা পানি ব্যবহার: জিভ পুড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুখে ঠান্ডা পানি নিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। এটি জিভের তন্তুতে থাকা অতিরিক্ত তাপ কমিয়ে ক্ষত গভীর হতে বাধা দেয়। তবে সরাসরি বরফ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন, কারণ এটি ‘আইস বার্ন’ ঘটিয়ে উল্টো ক্ষতি করতে পারে।
২. মধুর প্রলেপ: মধুর প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ক্ষমতা ক্ষত সারাতে অনন্য। ঠান্ডা পানি দেওয়ার পর এক চামচ মধু জিভের পোড়া জায়গায় লাগিয়ে রাখলে তা জ্বালা কমায় এবং ফোসকা পড়ার ঝুঁকি কমায়।
৩. চিনি বা মিছরি: পোড়া জায়গায় সামান্য চিনি ছিটিয়ে দিতে পারেন। চিনি গলার সময় তা স্বাদকোরকের অস্বস্তি কমিয়ে দ্রুত আরাম দেয়।
৪. ঠান্ডা দই বা দুধ: এক চামচ ঠান্ডা টক দই বা ঠান্ডা দুধ মুখে নিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এটি জিভের ওপর একটি প্রলেপ তৈরি করে, যা জ্বালা কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
৫. অ্যালোভেরা জেল: বাড়িতে খাওয়ার উপযোগী (Edible) অ্যালোভেরা থাকলে তার শাঁস পোড়া স্থানে লাগাতে পারেন। এটি দ্রুত ব্যথা নিরাময় ও শীতলতা প্রদানে সাহায্য করে।
যা করা যাবে না
জিভ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ঝাল, গোলমরিচ বা লেবুর রস জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। অন্তত ২৪ ঘণ্টা খুব গরম কিছু খাবেন না। এ সময় লবণ-পানি দিয়ে কুলকুচি করবেন না, কারণ এতে জ্বালা বেড়ে যেতে পারে।
তবে জিভ অতিরিক্ত ফুলে গেলে, ব্যথা তীব্র হলে বা ফোসকা বড় হয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
একা থাকতে ভালো লাগা কি মানসিক সমস্যার লক্ষণ
দুপুরের স্বল্প ঘুম নিয়ে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন গবেষকরা
