ডিম যে সবচেয়ে পুষ্টিকর খাবারগুলির অন্যতম তা নিয়ে সন্দেহ নেই কারোর। শিশু যখন প্রথম শক্ত খাবার খাওয়া শুরু করে তখন থেকেই খাদ্য তালিকায় যুক্ত হয় ডিম। আমাদের নিত্যদিনের কাজের শক্তি যোগাতে ডিমের ভূমিকা রয়েছে। ডিম রোগবালাই দূর করতে, ক্লান্তি মেটাতে সাহায্য করে। নানা ধরনের ভিটামিন ছাড়াও ডিমে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। দুর্বলতা কাটাতে চিকিৎসকরা সবসময় ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
শিশুদেরও ডিম খাওয়া বেশি জরুরি। ‘আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছে, ৯ মাস বয়স থেকে যে সমস্ত শিশুদের প্রতি দিন ডিম খাওয়ানো হয়, তাদের মস্তিষ্কের গঠন অন্য শিশুদের তুলনায় ভাল হয়। একটা সময় ডিমের কারণে শিশুদের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হতে পারে ভেবে শিশুদের ১ বছর বয়স হওয়ার পরেই ডিম খাওয়ানোর পরামর্শ দিতেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু এই গবেষণায় দাবি করা হচ্ছে, তার আগেই শিশুদের ডিম দেওয়া উচিত। তা হলে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ তুলনায় তাড়াতাড়ি হবে।
কেন শিশুদের ডিমের খাওয়ানো দরকার
মানুষের দুধে সর্বোচ্চ মানের প্রোটিন ‘ল্যাক্টালবামিন’ পাওয়া যায়। ডিম হল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মানের প্রোটিনের উৎস যা কোনও খাবারে পাওয়া যায় না। ডিম খনিজ, ভিটামিন এবং অন্যান্য বিভিন্ন পুষ্টি সমৃদ্ধ যা বিভিন্ন দিক থেকে শিশুদের জন্য উপকারী। ডিমের সাদা অংশ, পটাসিয়াম এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে কার্যকর রাখতে সাহায্য করে।
১. ডিম খনিজ উপাদান যেমন আয়রন, সেলেনিয়াম এবং জিঙ্কে সমৃদ্ধ যা শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে। শিশুদের মধ্যে নতুন কোষের উৎপাদন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এবং ডিমগুলি ফোলেট সমৃদ্ধ, কোষের পুনর্জন্মকে সহায়তা করে। ডিমের সাদা অংশগুলি বাচ্চাদের তাদের দেহে সঠিক সোডিয়াম এবং পটাসিয়াম সামগ্রী বজায় রাখতে সহায়তা করে। সবচেয়ে বড় কথা, ডিম, বিশেষত কুসুম বাচ্চাদের খাওয়া এবং হজম করার জন্য সহজ।
২. ডিমের কুসুমে কোলাইন এবং কোলেস্টেরল থাকে যা শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশে ভূমিকা রাখে। কোলেস্টেরল ফ্যাট হজমে সহায়তা করে এবং হরমোনও তৈরি করে। কোলাইন কার্ডিওভাসকুলার এবং স্নায়ুতন্ত্রের সঠিক ক্রিয়ায় সহায়তা করে।
৩. ডিমের সাদা অংশের প্রোটিন শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। ডিমে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে হল ফ্যাটযুক্ত দ্রবণীয় ভিটামিন, যা হাড়ের বিকাশে সহায়তা করে।
৪. ডিমের কুসুমে ফসফোলিপিড থাকে যা সঠিক ভাস্কুলার ফাংশনে সহায়তা করে এবং কোলেস্টেরল পরিচালনায় শিশুর হার্টকে সহায়তা করে।
৫. ডিমের মধ্যে থাকা সালফার ক্যারেটিন এবং কোলাজেন উৎপাদন করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ভিটামিন বি১২ শোষণ করতে সহায়তা করে, যা লিভারের সঠিক কাজকর্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. ডিমের কুসুমে ল্যুটেইন এবং জেক্সানথিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পাওয়া যায়। ল্যুটেইন ক্ষতিকারক খারাপ আলো এবং অতিবেগুনী আলোর ক্ষতির হাত থেকে চোখকে রক্ষা করে এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধে ভূমিকা রাখে।
অনেক শিশুই কিন্তু ডিম খাওয়া নিয়ে খুব টাল-বাহানা করে। কিন্তু এই পুষ্টিকর খাবারটিকে শিশুর খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে মাকে প্রয়োজনে কৌশল অবলম্বন করতে হবে। ডিম খাওয়ানো মানে সিদ্ধ বা পোঁচ ডিম শিশুর পাতে তুলে দেওয়া না। ডিমকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে, ভিন্ন রেসিপিতে সুস্বাদু খাবার হিসাবে সামনে দিলে শিশু নিজেই পছন্দ করে ডিম মুখে তুলবে।