ভালোবাসার সম্পর্ক সাধারণত দুজনের যত্ন, বোঝাপড়া আর প্রচেষ্টায় গভীর হয়। তবে সব সম্পর্ক চিরস্থায়ী হয় না। অনেক সময় সঙ্গী মনে মনে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেও মুখে কিছু বলেন না। মার্কিন সম্পর্কবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ম্যারিজডটকম’ এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সঙ্গীর আচরণে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করলে আগেভাগেই তার মনোভাব বুঝে নেওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ৬টি লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:
১. অকারণ ঝগড়া বৃদ্ধি: যে মানুষটি আগে ঝগড়া এড়িয়ে চলতেন, তিনি যদি হঠাৎ ছোটখাটো বিষয়ে বিরক্ত হন বা ধৈর্য হারান, তবে বুঝতে হবে তিনি সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।
২. সব দায় আপনার ওপর চাপানো: ব্রেকআপের আগে অনেকেই নিজের ভুল স্বীকার করতে চান না। সঙ্গী যদি প্রতিটি সমস্যার জন্য অকারণে আপনাকে দোষারোপ করতে শুরু করেন, তবে এটি একটি বড় সতর্কবার্তা।
৩. হঠাৎ ‘ভীষণ ব্যস্ত’ হয়ে পড়া: ব্যস্ততা সবারই থাকে। কিন্তু যদি দেখেন সঙ্গী ইচ্ছে করেই আপনার জন্য সময় কমিয়ে দিচ্ছেন এবং আগের মতো অগ্রাধিকার দিচ্ছেন না, তবে সম্পর্কের গভীরতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
৪. মনের কথা লুকিয়ে রাখা: সম্পর্কের প্রাণ হলো যোগাযোগ। সঙ্গী যদি হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যান এবং নিজের দিনলিপি বা পরিকল্পনা আপনার সঙ্গে শেয়ার করা বন্ধ করে দেন, তবে বুঝতে হবে তিনি মানসিকভাবে দূরে সরে যাচ্ছেন।
৫. গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া: আপনার মতামত বা অনুভূতি একসময় যার কাছে মূল্যবান ছিল, তিনি যদি এখন কেবল নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, তবে এটি সম্পর্কের ইতি টানার আগাম বার্তা হতে পারে।
৬. সারাক্ষণ মোবাইলে বুঁদ থাকা: একসঙ্গে থাকার সময়ও যদি সঙ্গী আপনার দিকে মনোযোগ না দিয়ে সারাক্ষণ মোবাইলে ডুবে থাকেন, তবে তা সম্পর্কের প্রতি তার অনাগ্রহ প্রকাশ করে।
পরামর্শ: মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই সম্পর্ক শেষ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় খোলামেলা আলোচনা অনেক ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে পারে। তবে সঙ্গী যদি সত্যিই সরে যেতে চান, তবে সত্যটা জেনে নেওয়া আপনার দীর্ঘমেয়াদী মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক।