বয়স যত বাড়ে, রোগ-বালাই তত বেশি সঙ্গী হয়। একথা সবার জানা। বয়সজনিত নানা অসুখ সঙ্গী হতে থাকে বয়সের সঙ্গে। তার ওপর যদি পড়ে গিয়ে হাত-পা কিংবা কোমরের হাড় ভাঙে তাহলে আর রক্ষা নেই। পা পিছলে বাথরুমে, মেঝেতে কিংবা সিঁড়িতে আছাড় খেলে তার জন্য বড় খেসারত দিতেই হবে।
‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত ‘বিএমজে কোয়ালিটি এবং সেফটি’ নামক জার্নালের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, বয়সকালে নিতম্বের হাড় ভাঙার পর ২০-৩০ শতাংশ রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। হাড় ভাঙার কষ্টও নেহাত কম নয়। সামান্য আঘাতে কিংবা একবার পড়ে গিয়ে হাড় ভাঙার কারণ হতে পারে হাড়ের দুর্বলতা।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে অস্টিওপোরোসিসের মতো অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এমন বিপদ এড়াতে তাই বয়স থাকতেই সতর্ক হওয়া ভালো। যেসব বিষয়ে নজর দেবেন-

ভিটামিন ডি
অধিকাংশ মানুষের মধ্যেই কিন্তু মধ্যবয়স থেকে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা যায়। অর্থাৎ শুধু বয়স্করা নন, এই ভিটামিনের ঘাটতিতে ভোগেন অপেক্ষাকৃত কমবয়সিরাও। কর্মব্যস্ততার জন্য অনেকেই নিয়ম করে গায়ে রোদ লাগাতে পারেন না। খোলা জায়গায় দিনে হাঁটাহাঁটি করেন না। ফলে কম বয়স থেকেই হাড় দুর্বল হতে শুরু করে। নিয়ম করে হাঁটাহাঁটি, ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হলে ডাক্তার দেখিয়ে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া জরুরি।

ওয়ার্ম আপ
শরীরচর্চা করার সময় ওয়ার্মআপ জরুরি। এতে শরীর, মাংসেপশির তাপমাত্রা বাড়ে। কারণ ওয়ার্ম আপ না করে ব্যায়াম করতে গেলে পেশিতে চোট পেতে পারেন। শরীরচর্চার শুরুটা করা দরকার ডায়নামিক স্ট্রেচিং দিয়ে। এতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। পেশির সঙ্কোচন এবং প্রসারণের ফলে রক্তচলাচল ভালো হয়।

সঠিক শরীরচর্চা
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শরীর বুঝে শরীরচর্চাতেও বদল আনা দরকার। অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যা থাকলে ওজন নিয়ে শরীরচর্চা করা ভালো। তবে কীভাবে তা করতে হবে, সেটি কোনো পেশাদারের কাছ থেকে শিখে নিতে হবে। জগিং, হাঁটাহাটির পাশাপাশি সঠিক কৌশলে যোগাসন করলে বয়সকালে অস্থিসন্ধির সমস্যা কমবে।

ডায়েট
হাড় মজবুত রাখতে ডায়েট গুরুত্বপূর্ণ। প্রদাহনাশক খাবার রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়। ভিটামিন ডি এবং প্রয়োজনীয় খনিজও জরুরি। তৈলাক্ত মাছ, আখরোট, তিসিবীজের মতো খাবার অস্থিসন্ধির ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে। রাগি, সাদা তিলের মতো খাবার ক্যালসিয়ামের জোগান বাড়ায়, যা হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য জরুরি।

সঠিক ব্যায়াম
বয়সকালে হাড় ভাঙার অন্যতম কারণ শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যাওয়া। যে ধরনের ব্যায়াম শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখে, সেগুলোর অভ্যাস করতে হবে।

সঠিক জুতা
পা হড়কে পড়ে গিয়েও বিপদ ঘটে। বয়স্কদের এমন জুতা দিন যেগুলো চট করে হড়কে যাবে না।

মেঝে শুকনো রাখা
ঘরের মেঝেতে পানি পড়লে দ্রুত মুছে নিন। পা হড়কে যেতে পারে এমন জিনিস পড়ে থাকলে দ্রুত তা পরিষ্কার করে নিন।
আলোর ব্যবস্থা
অন্ধকার বা কম আলোযুক্ত জায়গা দিয়ে হাঁটাচলা করতে গেলেও পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এ ব্যাপারে সতর্কতা জরুরি।

