শীতের কালে তাপমাত্রার নিম্নহারের কারণে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুরা কানে ব্যথার সমস্যায় ভোগেন। ঠান্ডা লাগা বা সংক্রমণের কারণে কানে ব্যথা, চুলকানি, পানি পড়া ও পুঁজ বের হওয়া দেখা দিতে পারে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে কান বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। বহিঃকর্ণ ও মধ্যকর্ণে সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ শিশুরা বেশি ভোগে। এই ধরনের সংক্রমণকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ওটাইটিস এক্সটার্না বলা হয়। এছাড়া সাইনাসের কারণে মিউকাস কানের পর্দার পেছনের অংশে ছড়িয়ে গেলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটে এবং কানে ব্যথা শুরু হয়।
অ্যালার্জির কারণে কানে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। বিশেষ করে যেসব শিশু অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভোগে, তাদের কানের সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
ব্যথা কমানোর করণীয়
- শিশুর কানে প্রাথমিকভাবে গরম সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
- কানের ভেতরে তেল বা ক্রিম দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে কানের পর্দা ও চামড়া উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
- শিশুকে ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার নিশ্চিত করতে হবে। পানির ঘাটতি হলে কানের ব্যথা বাড়তে পারে।
- ৬–৭ সপ্তাহ পরও যদি কানে ব্যথা থেকে যায়, তাহলে শিশুকে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
- কানে রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা বারবার জ্বর হলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষা এবং জটিলতা এড়াতে বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকা জরুরি।