গরমের সময় শরীর থেকে ঘাম বের হওয়া স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। তবে ঘর্মগ্রন্থির মুখ ঘাম, ময়লা বা ত্বকের আবর্জনায় বন্ধলাইফস্টাইল ডেস্ক হয়ে গেলে ঘাম বাইরে বের হতে পারে না। তখন ত্বকের নিচে ঘাম জমে ছোট ছোট ফুসকুড়ির মতো ঘামাচি দেখা দেয়।
শিশুদের ঘামাচি বেশি হওয়ার কারণ
বড়দের তুলনায় শিশুদের ঘর্মগ্রন্থি পুরোপুরি পরিণত হয় না। ফলে ঘাম তৈরি হলেও তা সহজে বাইরে বের হতে পারে না এবং গ্রন্থির ভেতরেই আটকে থাকার প্রবণতা থাকে। বিশেষ করে নবজাতক বা ছোট শিশু ঘেমে গেলে তা দ্রুত পরিষ্কার না করলে ঘাম জমে ঘামাচি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
অন্যদিকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে খেলাধুলা ও দৌড়ঝাঁপের কারণে শরীরে ঘাম ও ময়লা বেশি জমে। এতে ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে, ফলে শৈশবেই ঘামাচির সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
যেভাবে ঘামাচি প্রতিরোধ করবেন
গরমের দিনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করলে ঘামাচির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।
- শিশুকে হালকা, নরম ও বাতাস চলাচল করতে পারে-এমন পোশাক পরান। পাতলা সুতি কাপড় সবচেয়ে উপযোগী।
- আঁটসাঁট বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক এড়িয়ে চলুন।
- অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় ডায়াপার ব্যবহার না করাই ভালো। প্রয়োজনে এমন ডায়াপার বেছে নিন, যাতে প্লাস্টিকের স্তর কম থাকে।
- শিশু ঘেমে গেলে দ্রুত শরীর মুছে দিন। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি, ঘাড় ও শরীরের ভাঁজে জমে থাকা ঘামের দিকে নজর রাখুন।
- অতিরিক্ত ঘাম হলে পোশাক পরিবর্তন করুন এবং সম্ভব হলে গোসল করান। গোসল সম্ভব না হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন।
- নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। খেলাধুলার পর শরীরে ময়লা থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করুন।
- ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি, ভারী ময়েশ্চারাইজার বা এমন তেল-লোশন ব্যবহার করবেন না, যা ঘর্মগ্রন্থির মুখ বন্ধ করে দিতে পারে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এ ধরনের প্রসাধনী এড়িয়ে চলা উচিত।
- ভেজা ত্বকে কখনো পাউডার ব্যবহার করবেন না।
শিশুর ঘামাচি হলে কী করবেন
ঘামাচি সাধারণত গুরুতর কোনো রোগ নয় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায়। তবে এতে শিশুর অস্বস্তি, চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হতে পারে। অতিরিক্ত চুলকানোর কারণে ত্বকে ক্ষত তৈরি হলে সেখানে জীবাণু সংক্রমণ বা পুঁজও হতে পারে।
- নরম তোয়ালে বা কাপড়ে বরফ জড়িয়ে আক্রান্ত স্থানে কিছুক্ষণ ধরে রাখুন। এতে অস্বস্তি কমতে পারে।
- হালকা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করালে শিশুর স্বস্তি মিলতে পারে।
- শিশুদের ত্বকের জন্য উপযোগী ঘামাচির পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।
- নরম ও ঢিলেঢালা পোশাক পরান, যাতে আক্রান্ত স্থানে ঘর্ষণ না লাগে।
- ঘামাচি চুলকাতে নিরুৎসাহিত করুন। প্রয়োজনে আঙুলের নরম অংশ বা হাতের তালু দিয়ে আলতোভাবে স্পর্শ করা যেতে পারে।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রাসায়নিকযুক্ত লোশন ব্যবহার করা উচিত নয়।
- ফার্মেসি থেকে নিজের সিদ্ধান্তে কোনো মলম কিনে ব্যবহার করবেন না। অনেক মলমে স্টেরয়েড থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিশুর ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।
- যদি ঘামাচির সঙ্গে অতিরিক্ত চুলকানি, তীব্র জ্বালাপোড়া, পুঁজ, সংক্রমণের লক্ষণ বা জ্বর দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।