২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৪২ এএম

দীর্ঘ বিরতির পর আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এবার ২ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৭২ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৪ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৫ লাখ ৭৬ হাজার ১৭৮ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনূস আলী জানান, ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থাপন করা হয়েছে আরও ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র।

তিনি বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ইতোমধ্যে আমাদের হাতে পৌঁছেছে। কিছু ক্যাপসুল এখনো বাকি রয়েছে, তবে সেগুলোও আগামী ১৯ জুনের মধ্যে হাতে পাওয়ার আশা করছি। ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি। অভিভাবকদের অনুরোধ করব, তারা যেন নিকটস্থ কেন্দ্রে গিয়ে তাদের সন্তানদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন।”

এদিকে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ কোটি প্রাক-বিদ্যালয় বয়সী শিশু ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব শিশুর বড় অংশ আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বসবাস করে। ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হওয়া, রাতকানা রোগ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অন্ধত্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা প্রতিরোধে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সালে এর নামকরণ করা হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে কর্মসূচিটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

AM/SN
আরও পড়ুন