দুপুরের খাবার খাওয়ার পর দিনের কাজের এখনও অনেকটা বাকি থাকে। কিন্তু বিকেল গড়াতেই হঠাৎ যেন শরীরের সব শক্তি ফুরিয়ে যায়। হঠাৎ ক্লান্তি, ঝিমুনি কিংবা কাজে অনীহা দেখা দিলে অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু নিয়মিত এমন হলে খাবারের ধরন, ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
দুপুরের খাবারের পর শরীর খাবার হজম ও পুষ্টি শোষণের মাধ্যমে শক্তি তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় সমস্যা হলে পর্যাপ্ত খাবার ও ঘুমের পরও দুর্বল লাগতে পারে। আবার রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা বা ডায়াবেটিসের মতো শারীরিক কারণেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি হতে পারে।
ক্লান্তি কমাতে তিনটি অভ্যাসে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
১. বিকেলে খেজুর ও অল্প ঘি
খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তি দিতে পারে। সঙ্গে অল্প ঘি থাকলে খাবারে চর্বি যোগ হয়, যা তুলনামূলক ধীরে শক্তি সরবরাহে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঘি বেশি খাওয়া ঠিক নয়, কারণ এতে ক্যালরি বেশি।
২. দুধে জাফরান
এক থেকে দুইটি জাফানের আঁশ দুধে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে জাফরানকে ক্লান্তি দূর করার প্রমাণিত চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। এটি পুষ্টিকর খাবারের অংশ হিসেবেই নেওয়া ভালো।
৩. রাতে দেরিতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে হজমে অস্বস্তি এবং ঘুমের মান খারাপ হতে পারে। ফলে পরদিনও ঘুমঘুম ভাব ও ক্লান্তি থাকতে পারে। তাই ঘুমানোর অন্তত তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করা ভালো।
নিয়মিত বিকেলের ক্লান্তি হলে শুধু কফির ওপর নির্ভর না করে ঘুম, খাবার, পানি পান ও শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস পর্যালোচনা করুন। দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।