ব্যায়াম, ডায়েটিং, ফাষ্টিং কোন কিছুতেই পেটের মেদ কমছে না? মন মতো পোশাকও পরতে পারছেন না এই পেটের মেদের জ্বালায়। আসলে পেটের চর্বি হল সমস্ত শরীরের চর্বিগুলির মধ্যে সবচেয়ে জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী মেদ। এই মেদের কারণে একটা সময় নানা ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হয় আমাদের।
ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ থেকে বাঁচতে পেটের মেদ ঝরিয়ে ফেলা জরুরি। কিন্তু কীভাবে সেটা সম্ভব? ভারতীয় একজন ডায়েটিশিয়ান মনপ্রীত কালরা খাবার এবং দৈনন্দিন অভ্যাসের একটি নিয়ম শেয়ার করেছেন যা কার্যকরভাবে পেটের চর্বি পোড়াতে সাহায্য করতে পারে। চলুন দেখে নেই সেগুলো কি….
পেটের চর্বির কারণ: প্রথমে জানতে হবে কেন এই মেদ জমে। শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অত্যধিক প্রক্রিয়াজাত জাঙ্ক ফুড খাওয়া, ঘুমের অভাব, স্ট্রেস, ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা, অতিরিক্ত চিনি খাওয়া এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণের ফলে পেটে খুব সহজে ঝরানো যায় না এমন মেদ জমা হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর চর্বি খান: সকালের শুরুতেই আপনি ভেজানো বাদাম এবং বীজের মতো ভাল ফ্যাট খেতে পারেন যা পেটের চর্বি পোড়াতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণা প্রমাণ করে যে স্বাস্থ্যকর চর্বি সমৃদ্ধ খাবার যেমন মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চর্বি বিশেষ করে পেটে জমে থাকা মেদ হ্রাস করতে পারে।
হরমোনের দিকে দৃষ্টি দিন: শরীরের সবকিছুই নির্ভর করে হমমোনের ওপর। শুধু পেটের মেদের দিকে না তাকিয়ে আপনরে শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীণতা আছে কিনা সেটা পরীক্ষা করে নেয়া জরুরি। একইসঙ্গে পেট সংক্রান্ত সমস্যা বা অন্ত্রের কোন সমস্যা আছে নিা সেটাও জানা প্রয়োজন।
দৈনিক হাঁটা এবং ব্যায়াম: প্রতিদিন হাঁটা এবং প্রতি সপ্তাহে তিনদিন পেটের জন্য স্পেশাল ব্যায়ামের সমন্বয়ে একসারসাইজ রুটিন তৈরি করুন। এতে দ্রুত পেটের মাপ কমতে শুরু করবে।
আঁশযুক্ত খাবারে বিশ্বাস: ওটস, বার্লি, বাদাম, বীজ, মটরশুটি, মসুর, ডাল এবং আপেল,স্ট্রবেরি, নাশপাতিসহ সকল শাকসবজিতে পাওয়া যায় সলিউবল ফাইবার যা বেশি করে খেতে হবে। কারণ এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে এবং আপনার অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে।
রাতে দেরি করে খাওয়া এড়িয়ে চলুন: অনেকেই রাতে দেরি করে খান। এটা পেটের মেদের অন্যতম কারণ। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বাড়াতে গভীর রাতের স্ন্যাকস এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। দিনের শেষ খাবার যতো তাড়াতাড়ি শেষ করতে পারবেন ততোই ভালো।
দারুচিনি থেরাপি: খাবারের পর এক কাপ পানিতে এক চিমটি দারুচিনি খেলে চর্বি কমতে পারে। এটি আপনাকে ভালো ঘুমাতেও সাহায্য করে।
ফ্ল্যাক্সসিডস: যে কোন খাবারে এক চা চামচ ভাজা এবং গুঁড়ো করা ফ্ল্যাক্সসিড আপনার ডায়েটে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি যোগ করতে সাহায্য করে। এটা তৃপ্তি বাড়াতে এবং চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
আপেল সাইডার ভিনেগার: খাওয়ার আগে এক গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার পেটের চর্বি কমাতে বিস্ময়কর কাজ করতে পারে।
মটরশুটি: জটিল কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং প্রোটিনযুক্ত শিমের মতো সবজি চর্বি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপনার খাবারে পর্যাপ্ত শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন।
মেথি ভেজানো পানি: পেটের মেদ কমানোর জন্য দুর্দান্ত সুপারফুডগুলির মধ্যে একটি হল মেথি বীজ ভেজানো পানি। এক গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ মেথি সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করুন।