পানি জীবনের উৎস ও ভবিষ্যতের শক্তি

প্রিয় পাঠক, আজ আমি আপনাদের সঙ্গে এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো যা আমরা প্রতিদিন দেখি, কিন্তু এর আসল মূল্য বুঝি না। সেই বিষয়টি হলো পানি।

ছোটবেলায় মা বলত ‌‘মা, পানি খাও’। আমরা বিরক্ত হতাম। মনে হতো পানি তো আছেই, এটা নিয়ে আবার কী বলার আছে? কিন্তু বড় হয়ে বুঝেছি, পানি ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায় না। পানি শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, পানি আমাদের শরীর, মন, পড়াশোনা, এমনকি দেশের অর্থনীতিকেও বাঁচায়। পানিই জীবনের উৎস এবং আমাদের ভবিষ্যতের শক্তি।

বিজ্ঞানীরা বলেন, একজন মানুষ খাবার ছাড়া ৩ সপ্তাহ বাঁচতে পারে। কিন্তু পানি ছাড়া মাত্র ৩ দিন। আমাদের শরীরের ৭০শতাংশ পানি। রক্তে ৯০ শতাংশ পানি। মস্তিষ্কে শতাংশ পানি। আমরা যখন শ্বাস নেই, ঘামি, প্রস্রাব করি - প্রতিটি মুহূর্তে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাচ্ছে। সেই পানি পূরণ না করলে শরীর আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে পড়ে।

water

গরমে আমরা যে পরিমাণ ঘামি, তা পূরণ করতে রোজ ২-৩ লিটার পানি দরকার। কিন্তু অনেক ছাত্র-ছাত্রী সারাদিনে ৩-৪ গ্লাসের বেশি পানি খায় না। ফল? ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা ঘুম আসা। 

আপনারা কি জানেন, আমাদের মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় খাবার হলো পানি। যখন আমরা ডিহাইড্রেটেড হই, মানে শরীরে পানি কমে যায়, তখন মস্তিষ্কের কাজ ১৩ শতাংশ কমে যায়। তাই  সঠিক পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

মানব সভ্যতার শুরু থেকে পানি জীবনের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। পানি ছাড়া কোনো প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। আমাদের শরীরের প্রায় ৭০ ভাগ পানি দ্বারা গঠিত। রক্ত, মস্তিষ্ক, মাংসপেশি ও প্রতিটি কোষের কার্যকারিতার জন্য পানি অপরিহার্য।

hot water 2

প্রথমত, পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ঘর্মগ্রন্থির মাধ্যমে অতিরিক্ত তাপ বের করে দিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে। দ্বিতীয়ত, পানি খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে এবং শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শিক্ষার্থীদের জন্য পানি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য ডিহাইড্রেশনও মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস করে। পরীক্ষার সময় বা পড়াশোনার ফাঁকে নিয়মিত পানি পান করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়, ফলে পড়া দ্রুত আয়ত্ত হয় এবং ক্লান্তি কম লাগে।

এছাড়া পানি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই সবার জন্যই পানি আবশ্যক।