অতিরিক্ত লেবু পানি পানে বিপদের শঙ্কা

অতিরিক্ত লেবু পানি পানে বিপদের শঙ্কাডায়েটে পান করা বিভিন্ন পানীয়ের মধ্যে সকালে গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে খাওয়া বেশ উপকারি। তবে অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবুর পানি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে দিতে পারে ঠিকই, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ব্যাপারে সতর্ক হতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

সকালে এক কাপ লেবুর রস বা লেবু-পানি পান করাকে প্রায়শই শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা (ডিটক্স), ওজন কমানো এবং ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখার একটি সহজ উপায় হিসেবে মনে করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সুফল সীমিত। বরং অতিরিক্ত মাত্রায় লেবুর রস পান করলে দাঁত ও পরিপাকতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। 

লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুডডেটা সেন্ট্রাল এর তথ্যানুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম লেবুতে রয়েছে প্রায় ৫৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কোষগুলোকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে। লেবুর এতো পুষ্টিগুণ থাকা সত্ত্বেও বৈজ্ঞানিক কিছু তথ্য এর বিপক্ষে প্রশ্ন তোলে। যেমন- লেবুর রস পান করলে শরীর বিষমুক্ত হয়, ওজন দ্রুত কমে কিংবা ত্বক উজ্জল করে; এসব দাবি কতটা যুক্তিযুত বৈজ্ঞানিকভাবে এর যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি। 

লেবুর পানি শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে:

ভিয়েতনামের মিলিটারি হাসপাতাল ১৭৫-এর পুষ্টি বিভাগের উপ-প্রধান ড. বুই থি দুয়েন বলেছেন, লেবুর রস শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করাতে বা ওজন কমাতে সাহায্য করে এমনটা মনে করা পুরোপুরিভাবে উচিত নয়। দুয়েনের মতে, প্রতিদিন সকালে লেবুর পানি পান করার অন্যতম প্রধান উপকারিতা হলো, এটি সারারাত ঘুমের পর শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে এবং পরিমিত ভিটামিন সি সরবরাহ করে।

তিনি আরো বলেন, চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে লেবু পানি পান করাও উপকারী হতে পারে। উচ্চ-চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে লেবুর পানি পান করলে তা শরীরে ক্যালরি এবং চিনির মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অতিরিক্ত লেবু পানি দাঁতের জন্য ক্ষতিকর:

লেবু পানি অতিরিক্ত অ্যসিডিক। তাই বারবার পান করলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন দাঁতের এনামেলের ওপর অম্লীয় বা অ্যাসিডযুক্ত পানীয়ের প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে যখন এগুলো অতিরিক্ত পরিমানে পান করা হয়।

লেবুর রসের সঙ্গে পানি মিশিয়ে এর অম্লতা কমানো সম্ভব। এছাড়া বিশেষজ্ঞরা অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলার এবং অম্লীয় পানীয় পানের পর মুখ সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দেন। লেবুর পানি পানের ক্ষেত্রে স্ট্র ব্যবহার করলে দাঁতের সঙ্গে লেবুর পানির সংস্পর্শ কমানো যেতে পারে।

গ্যাস্ট্রিসাইটিসে ভোগা ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা উচিত:

খালি পেটে লেবুর রস পান করলে অনেকের অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে যারা গ্যাস্ট্রাইটিস বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভুগছেন। অ্যাসিডিটির কারণে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে বুক জ্বালাপোড়া ও পাকস্থলীতে অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে বা তা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ডুয়েন পরামর্শ দিয়েছেন, ঘন ঘন লেবুর রস পান না করে অর্ধেক লেবুর রস ২০০ থেকে ৩০০ মিলিলিটার পানির সাথে মিশিয়ে পান করা উচিত। যাদের আগে থেকেই হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। লেবুর পানি পানের ফলে যদি পাকস্থলীর সমস্যা বেড়ে যায় তাহলে পান করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সুস্থ জীবনযাপন অনুশীলন করা জরুরি:

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নির্দিষ্ট খাবার বা সকালের কোনো রুটিন মেনে চলার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণের সমাধান হিসেবে শুধুমাত্র লেবুর পানির ওপর নির্ভর না করে খাদ্যতালিকায় নিয়মিত সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। বিশেষজ্ঞরা শাকসবজি ও উন্নত মানের প্রোটিন বা আমিষকে খাদ্যতালিকায় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। পাশাপাশি, চিনি ও  প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা এবং প্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।