ঘরে ঢুকে ভুলে যাচ্ছেন কেন এসেছিলেন, তা কি স্বাভাবিক নাকি বিপদের ইঙ্গিত?

কোনও একটি কাজের মধ্যে ছিলেন। বাড়িরই নির্দিষ্ট ঘরে ঢুকলেন। কয়েক সেকেন্ড পরেই মনে করতে পারছেন না কেন এসেছেন এখানে! এমনটা কি আপনার সঙ্গেও হয়? বাড়ির মধ্যে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে গিয়ে মনে পড়ে না ঠিক কেন এসেছিলেন?

গবেষকদের মতে, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময়ে আমাদের মস্তিষ্ক সদ্য ভাবা তথ্যগুলো সাময়িক ভাবে মনে করতে পারে না।

২০১৪ সালে ‘মেমোরি’ নামে একটি জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মানুষ বাস্তবে কোনও দরজা না পেরিয়ে যদি কেবল মনে মনেও কল্পনা করে যে সে একটি দরজা পেরিয়ে অন্য ঘরে যাচ্ছে, তাহলেও সে আগের কাজের কথা ভুলে যেতে পারে। অর্থাৎ, শুধু বাস্তবে হাঁটাচলা নয় মনে স্থান পরিবর্তনের কথা ভাবলেও এটি ঘটে।

নতুন ঘরে ঢুকলে কেন এমন হয়?

মস্তিষ্ক সারাদিনের অভিজ্ঞতাগুলিকে আলাদা আলাদা অধ্যায় হিসাবে সাজিয়ে রাখে। এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়া মস্তিষ্কের কাছে একটি সীমানা বা নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ার সঙ্কেত।

তথ্য নতুন করে সাজানো: বসার ঘরে থাকার সময়ে হয়তো চার্জারের কথা মাথায় ঘুরছিল, ভাবছিলেন চার্জার এনে ফোনটি চার্জে বসাতে হবে। কিন্তু যেই রান্নাঘরে পা দিলেন, বেমালুম আগের কথা ভুলে গেলেন। আসলে নতুন ঘরে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মস্তিষ্কের চারপাশের পরিবেশ বদলে যায়। মস্তিষ্ক তখন পুরনো চিন্তা সরিয়ে নতুন ঘরের পরিবেশ বোঝার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

এর মানে অবশ্য চিন্তাটি মাথা থেকে একেবারেই মুছে গিয়েছে তা নয়। আগের ঘরে ফিরে এলে পরিবেশের মিল পেয়ে চিন্তাটি আবার মনে পড়ে যায়।

আসল কারণ ‘অতিরিক্ত চিন্তা’

২০২১ সালে ‘বিএমসি সাইকোলজি’ নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শুধু দরজা পার হওয়াই ভোলার একমাত্র কারণ নয়। নেপথ্যে থাকে অতিরিক্ত চিন্তাও। কেউ রান্নাঘরে যাওয়ার সময়ে যদি অফিসের চিঠি, একটু আগের কোনও কথোপকথন কিংবা রাতের খাবারের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে থাকেন, তবে মস্তিষ্কের উপর কাজের চাপ বাড়ে। ফলে ঠিক সময়ে, ঠিক কথাটি মনে পড়ে না।

সহজ ভাবে বলতে গেলে, এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার ফলে মস্তিষ্কের পরিবেশের পরিবর্তন এবং একই সঙ্গে অনেক কিছু ভাবার মানসিক চাপ এই দুইয়ের কারণেই মূলত সাময়িক ভাবে ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায় এই ক্ষেত্রে।