কোষ্ঠকাঠিন্য একটি পরিচিত হজমজনিত সমস্যা। নিয়মিত মলত্যাগ না হওয়া বা মলত্যাগের পরও পেট পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি বলে মনে হলে পেটে গ্যাস, পেট ফাঁপা ও ভারী ভাব দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
পুষ্টিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শিলপা অরোরার মতে, কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রভাব শুধু হজমের সমস্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে পেট ফাঁপা, ক্লান্তি ও ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে ব্রণ, ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া বা ওজন কমাতে অসুবিধার মতো লক্ষণের পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।
হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখা এবং নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে খাদ্যতালিকায় কয়েকটি খাবার রাখা যেতে পারে। এর মধ্যে কাঁচা পেঁপে, ভেজানো কিশমিশ ও শুকনো আলুবোখারা উল্লেখযোগ্য।
কাঁচা পেঁপে
কাঁচা পেঁপেতে প্যাপেইন নামের একটি হজমকারী এনজাইম ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। প্যাপেইন প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে, আর খাদ্যআঁশ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পেঁপে খেলে হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়তা পাওয়া যেতে পারে।
ভেজানো কিশমিশ
কিশমিশে খাদ্যআঁশ ও সরবিটল নামের একটি প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। সরবিটল অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে মল নরম হওয়া ও মলত্যাগ সহজ হতে পারে। পানিতে ভিজিয়ে কিশমিশ খাওয়া অনেকের জন্য সহজ উপায়। তবে অতিরিক্ত খেলে কারও কারও পেটে অস্বস্তি হতে পারে।
শুকনো আলুবোখারা
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুকনো আলুবোখারা বা প্রুনস বেশ পরিচিত একটি খাবার। এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের খাদ্যআঁশ রয়েছে। অদ্রবণীয় আঁশ মলের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে, আর দ্রবণীয় আঁশ হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। এতে থাকা সরবিটলও মল নরম করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার খেলেই হবে না। পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও পূর্ণশস্যের মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় আঁশের পরিমাণ হঠাৎ না বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বাড়ানো ভালো, যাতে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা না বাড়ে।
খাদ্যাভ্যাসে ছোট পরিবর্তন হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে এবং মলত্যাগ নিয়মিত করতে সহায়তা করতে পারে। তবে দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে, তীব্র পেটব্যথা হলে, মলে রক্ত দেখা গেলে বা অকারণে ওজন কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।