হজমের সমস্যা, পেট ফাঁপা কিংবা বমি বমি ভাব কমাতে আদা উপকারী হতে পারে। তবে আদা কখন খাওয়া হচ্ছে, তার ওপরও এর কার্যকারিতা কিছুটা নির্ভর করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হজমের স্বস্তি পেতে খাবার খাওয়ার ঠিক আগে অথবা খাবারের সঙ্গে আদা খাওয়া উপকারী হতে পারে। তবে আদা খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়কে সবচেয়ে কার্যকর প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো নেই।
স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী হেলথ-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডেনভারের নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ও খাদ্যপুষ্টি বিশেষজ্ঞ জেন লেভেরিচ বলেন, আদা খাওয়ার সঠিক সময় নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো এমন পর্যাপ্ত গবেষণা করেননি, যার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা যায়। তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া গবেষণার ফল বলছে, খাবারের কিছুক্ষণ আগে অথবা খাবারের সঙ্গে আদা খেলে বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে।
এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো, আদা খাবার হজমের প্রক্রিয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আদা বমি বমি ভাব ও পেট ফাঁপার মতো উপসর্গ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া পাকস্থলী থেকে খাবার অন্ত্রে যাওয়ার প্রক্রিয়া, অর্থাৎ পাকস্থলী খালি হওয়ার গতিও বাড়াতে পারে। তবে এ বিষয়ে গবেষণার প্রমাণ এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক মীনা মালহোত্রা বলেন, আদার প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব উপাদান পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
আদা হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, খাবারের সঙ্গে আদা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। ফলে খাবার খাওয়ার পর ক্লান্ত বোধ করার সমস্যাও কিছু ক্ষেত্রে কমতে পারে।
লেভেরিচের মতে, আদা খাওয়ার পর কারও কারও শরীরে বেশি শক্তি অনুভূত হলে তার কারণ সরাসরি আদার উদ্দীপক প্রভাব নয়। বরং হজমে স্বস্তি, রক্তে শর্করার তুলনামূলক স্থিতিশীলতা কিংবা দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
কোন ধরনের খাবারের সঙ্গে আদা বেশি উপকারী হতে পারে?
খাবারের ধরন ও পরিমাণ আদার কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বেশি পরিমাণে খাবার খেলে কিংবা চর্বি ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করলে হজমে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। এ ধরনের খাবারের ক্ষেত্রে খাবারের আগে বা সঙ্গে আদা খাওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করেন লেভেরিচ।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খাবার হজমের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সময় আদা অন্ত্রের চলাচল বা গতিশীলতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে অল্প পরিমাণে খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে আদা খাওয়ার সময় এতটা গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে।
কাঁচা আদা, নাকি শুকনো আদা—কোনটি ভালো?
আদার ধরনও এর উপকারিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচা আদায় জিঞ্জেরল নামের সক্রিয় উপাদান বেশি থাকে। এই উপাদান আদার হজমে সহায়তা, প্রদাহরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আদা শুকানো বা গরম করার সময় এর কিছু জিঞ্জেরল শোগাওলে রূপান্তরিত হয়। শোগাওলেরও জৈবিক কার্যকারিতা রয়েছে। এটি প্রদাহ ও বমি বমি ভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে পাকস্থলী খালি হওয়ার গতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে শোগাওলের প্রভাব জিঞ্জেরলের তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন লেভেরিচ।
তাঁর মতে, খাবার খাওয়ার পর পেট ভার লাগা বা পেট ফাঁপার সমস্যা কমানোই যদি লক্ষ্য হয়, তাহলে কাঁচা আদা অথবা তাজা আদা দিয়ে তৈরি চা ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে, সাধারণ হজমের অস্বস্তি কিংবা বমি বমি ভাব কমাতে গুঁড়া বা শুকনো আদাও কাজে আসতে পারে।
তবে আদা খেলেই সবার একই রকম উপকার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। হজমের সমস্যা নিয়মিত হলে বা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু আদার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।