ঈদুল আজহায় গরুর মাংস খাওয়ার পর দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া নিয়ে নানা সতর্কবার্তা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত ধারণা না রেখে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরুর মাংস ও দুধ, উভয়ই প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। ফলে একসঙ্গে বা খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে বেশি পরিমাণে খেলে কারও কারও ক্ষেত্রে হজমে অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া বা ভারী লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।
তবে গরুর মাংস খাওয়ার পর দুধ পান করলেই রক্তচাপ বেড়ে যায়, আলসার হয়, ত্বকের রোগ হয় বা গুরুতর অসুস্থতা দেখা দেয়, এমন দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সাধারণত এ ধরনের সরাসরি ক্ষতির বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নয়।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ঈদের সময় অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা উচিত। মাংসের সঙ্গে পর্যাপ্ত শাকসবজি, সালাদ ও পানি খেলে হজমে সুবিধা হয়। এছাড়া ভারী খাবারের পর কিছুটা হাঁটাচলা করাও উপকারী।
যারা দুধ, দই, মিষ্টি বা অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার খেতে চান, তারা মাংস খাওয়ার কিছু সময় পরে সেগুলো গ্রহণ করতে পারেন। এতে হজমতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের আনন্দ উপভোগের পাশাপাশি খাবারের পরিমাণ ও ভারসাম্যের দিকে নজর রাখাই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।