ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য আমরা সক্ষম। নির্বাচন কমিশন, সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারী) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। আইএসপিআরের মাধ্যমে মতবিনিময় সভার এসব বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সভায় সেনাপ্রধান বলেন, নির্বাচনের সময় কোথাও কোথাও অর্থ লেনদেন বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হতে পারে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রতি আসনে কিছু অপরাধী থাকতে পারে, তবে সবাই এ ধরনের অপকর্ম করবে না। ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া বা অন্য কোনো অপরাধ হলে আমাদের বাহিনী ব্যবস্থা নেবে— আটক কিংবা মামলা করা হবে।
একই কর্মসূচিতে নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত ছিলেন। তিন বাহিনীর প্রধানেরা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেন।
সফরকালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন তিন বাহিনীর প্রধানেরা। সভায় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্ত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় তারা পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।