বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে ও কীভাবে?

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছে। সরকারের এই পরিবর্তনের সাথে সাথে এখন সবার নজর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ ‘রাষ্ট্রপতি’র দিকে। বর্তমানে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকলেও, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি কবে নাগাদ পদত্যাগ করতে পারেন কিংবা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে হবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দায়িত্ব নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিনের স্বাভাবিক মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। সংবিধান অনুযায়ী, তিনি পদত্যাগ না করলে বা তাকে অভিশংসন না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি সুযোগ নেই। তবে গত ডিসেম্বর মাসে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে আগ্রহী। 

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের পরপরই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়সী যেকোনো ব্যক্তি এই পদের জন্য লড়তে পারেন। নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি মূলত নিম্নরূপ:
১. নির্বাচনি কর্তা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই নির্বাচন পরিচালনা করেন।
২. তফসিল: স্পিকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিইসি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
৩. প্রস্তাবক ও সমর্থক: রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীর জন্য দুইজন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হয়; একজন প্রস্তাবক ও একজন সমর্থক।
৪. ভোটগ্রহণ: সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্যরা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন। তবে একক প্রার্থী হলে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা মূলত ‘আলংকারিক’। তবে ‘জুলাই সনদে’ বর্ণিত রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাব অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। তবে এর জন্য আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।

সংবিধান বিশ্লেষক কাজী জাহেদ ইকবালের মতে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হওয়ার পর নতুন সংসদ দ্রুত নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সংসদীয় এই চর্চায় নতুন সরকারের পছন্দের কোনো ব্যক্তিই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।