৩ বছরে ৩ সরকারকে শপথ, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের ইতিহাস

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৪, ২০২৫ ও ২০২৬- পর পর তিন বছর তিনটি সরকারকে শপথ পড়ালেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনি তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করালেন। 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ পড়ানোর মধ্য দিয়ে এই ইতিহাস গড়েন তিনি। 

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের এই যাত্রার শুরু ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, যখন তিনি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে শপথ পাঠ করান।

তবে ওই বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সেই সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেও শপথ পড়ান তিনি। সর্বশেষ আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি।

২০০১-২০০৬ মেয়াদের পর দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা মোট ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী (৩ জন টেকনোক্র্যাট) এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

এবারের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে নতুন মুখদের প্রাধান্য। ২৫ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই এবার প্রথমবার মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সবাই নতুন। খোদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত একজন রাষ্ট্রপতি তার পুরো মেয়াদে এক বা বড়জোর দুবার মন্ত্রিসভার শপথ পরিচালনা করেন। কিন্তু তিন বছরে তিন ধরনের (দলীয় ও অন্তর্বর্তী) সরকারকে শপথ পড়ানোর ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম।

FJ
আরও পড়ুন