বিগত সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভাতা কার্যক্রমে ব্যাপক স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বর্তমান তালিকা সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে দ্রুত নতুন তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব তথ্য জানান। সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক ও শাহাজাহান চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
ফারজানা শারমিন বলেন, ‘বিগত সরকার সমাজকল্যাণ বিভাগে অনেক অবৈধ এবং মনগড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। তৎকালীন অস্থির সময়ে যেসব তালিকা তৈরি করা হয়েছে, আমরা বর্তমানে সেগুলো ‘রি-চেক’ (পুনরায় যাচাই) করছি। তালিকায় থাকা অযোগ্যদের বাদ দিয়ে যারা সত্যিকার অর্থে পাওয়ার যোগ্য, কেবল তাদেরই রাখা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভাতার কার্ডে হওয়া অনিয়মগুলো চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে ১৪টি ইউনিটে কাজ চলছে এবং সেখান থেকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালাগুলো আরও জনবান্ধব ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
দেশে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভাতা কর্মসূচি চালুর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগ প্রথম শুরু করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে অন্য সরকারগুলো এটি অনুসরণ করলেও বিগত সময়ে তালিকায় দলীয় স্বজনপ্রীতি চরম আকার ধারণ করেছিল। আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য কার্ডের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং প্রকৃত অসহায় মানুষের হাতে কার্ড পৌঁছে দেওয়া।’
মাঠ পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এই কমিটিগুলো সরাসরি বিদ্যমান তালিকা যাচাই-বাছাই করবে। যাদের প্রকৃত প্রয়োজন, সরকারি সহায়তা যেন কেবল তাদের কাছেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।