সারাদেশে নদী দখলদার প্রায় ২২ হাজার: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে দেশের নদী ও নদী দখলদারদের সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত তালিকায় দেশে বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪১৫টি নদী রয়েছে। একই সাথে সারা দেশে ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ নদী দখলকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এই তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়। ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান যে, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং নদীকর্মীদের যৌথ সহায়তায় নদীর এই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই তালিকাটি ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

নদী রক্ষা কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ সংশোধনের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত গঠন করা, দখলসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করা, দূষণের বিপরীতে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো তদারকি করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান রাখা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ–১ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ নদী দখলকারী চিহ্নিত হয়েছেন। চিহ্নিত এই দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের তালিকা যাচাই করে দ্রুত উচ্ছেদ পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনা পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

সংসদে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম দেশের নৌপথের নাব্যতা ও ড্রেজিং কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি জানান, দেশের নদীগুলোর নাব্যতা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সরকারের এই সমস্ত উদ্যোগের ফলে বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমেও দেশের নাব্য নৌপথের দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটারে, যা বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির ফলে বেড়ে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটারে গিয়ে পৌঁছায়। নদী রক্ষা ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার তৎপর রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Attr/AHA
আরও পড়ুন