দেশে গত ছয় মাসে ৬৭টি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি সংস্থা 'ভয়েস'।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাংলাদেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংশ্লিষ্ট অধিকারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদনের প্রধান ফলাফল, বিশ্লেষণ এবং সুপারিশসমূহ উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনটি গত নভেম্বর এপ্রিল পর্যন্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত খবরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা পরিস্থিতির প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে ভয়েস-এর উপপরিচালক মুশাররাত মাহেরা চলমান গণমাধ্যম পর্যালোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘গত ছয় মাসে আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ৬৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছি। এ ধরনের ঘটনার স্বাভাবিকীকরণ প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলা, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ শক্তিশালী হবে।’
প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ, অনলাইন মতপ্রকাশের অপরাধীকরণ, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, জনসম্মুখে নারীর প্রতি সহিংসতা, এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাধীনতার ওপর ক্রমবর্ধমান সীমাবদ্ধতা।
তারা উল্লেখ করেন, এসব ঘটনা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করছে।
অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন বলেন, ডিজিটাল আইনসহ অন্যান্য আইন প্রণয়নের সময় গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ থাকলেও তাদের সুপারিশগুলো সবসময় চূড়ান্ত সংস্করণে প্রতিফলিত হয় না, যা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণের কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে সীমিত করতে পারে।
গণমাধ্যম ও জেন্ডার গবেষক এবং শিক্ষক আফরোজা সোমা বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা কে নির্ধারণ করে, এবং সেই স্বাধীনতা খর্ব হলে কার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।’
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি শারাবান তহুরা বলেন, সামাজিক মাধ্যমে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর কনটেন্টের বিস্তার, ক্রমশ সাংবাদিক এবং সাধারণ জনগণের ওপর প্রভাব ফেলছে, যা ডিজিটাল ও নাগরিক পরিসরে অপতথ্যের ভয়াবহতাকে তুলে ধরে।
প্রতিবেদনের কাজে সম্পৃক্ত ভয়েস এর প্রতিনিধি, বন্ধন দাস বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ধারাবাহিক ঘটনা বিশ্লেষণ করেছি এবং দেখেছি যে এ ঘটনাগুলির তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে, মব-সহিংসতা একটি ক্রমবর্ধমান ও উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধি উদিসা ইসলাম, নাগরিক উদ্যোগের নাদিরা পারভিন, উন্নয়ণ ধারা ট্রাস্টের মো. আমিনুর রসুল, সেরাক বাংলাদেশের এস, এম, সৈকত, সাংগাতের প্রতিনিধি বিপাশা সাঈদ, অধিকারকর্মী মঞ্জু রানি প্রামাণিক, কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, রাইজিংবিডি ডটকমের নিজস্ব প্রতিবেদক রায়হান হোসেন প্রমুখ।