৭১ ও ২৪-কে ভিত্তি করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার বার্তা মির্জা ফখরুলের

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৫ এএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার ভাবধারা স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান—এই দুটিকেই ধারণ করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 'সম্মিলিত সনাতনী পরিষদ' আয়োজিত এ সভায় সনাতন সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল জোর দিয়ে বলেন, যারা ৭১-কে ভুলিয়ে দিতে চায়, তারা বাংলাদেশেই বিশ্বাস করে না। ঠিক একইভাবে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, কারণ তাদের রক্তের বিনিময়েই দেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি ধর্মান্ধতা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে যারা দেশে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। উগ্রবাদ বা মৌলবাদকে ছাড় না দিয়ে একটি উদারপন্থী ও সর্বজনীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনই বিএনপির লক্ষ্য।

স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাস তুলে ধরে তিনি আফসোস প্রকাশ করেন যে, ১৯৭১ সালে যে গণতান্ত্রিক চেতনায় দেশ স্বাধীন হয়েছিল, তৎকালীন শাসকরা তা ধরে রাখতে পারেনি। একদলীয় শাসন চাপিয়ে দেওয়ার কারণেই বারবার এ দেশের গণতন্ত্র থমকে গেছে।

বিএনপি মহাসচিব স্বীকার করেন, একটি টেকসই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারাই আমাদের মূল দুর্বলতা। সমাজে সর্বস্তরের মানুষের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া জরুরি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপি সবসময় আপনাদের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেয়। পেছন ফিরে না তাকিয়ে অতীতের সব বিভেদ ভুলে একসঙ্গে পথচলা এবং ধর্মীয় উস্কানিদাতাদের বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

বিগত ১৫ বছরে ধ্বংস হওয়া শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের এটি বড় সুযোগ বলে উল্লেখ করেন ফখরুল। বিদ্যমান সব চ্যালেঞ্জ ও রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদের উৎস (Source): রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ সংক্রান্ত মতবিনিময় ও প্রতিনিধি সম্মেলন থেকে সংগৃহীত।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত