নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন মোবাইল সিম কার্ড কেনার ওপর আরোপিত ৩০০ টাকা কর বা সিম ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হচ্ছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দিতে যাচ্ছে সরকার। তবে টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বড় অঙ্কের কর ছাড়ের সরাসরি সুফল সাধারণ গ্রাহকরা পাবেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের ফলে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর আর্থিক সুবিধা ও লভ্যাংশ বাড়লেও, সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম বা কলরেট কমার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে সরকারের এই রাজস্ব ছাড়ের সুবিধা শেষ পর্যন্ত বড় টেলিকম কোম্পানিগুলোর দিকেই বেশি যাবে, সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হবেন না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি খাতকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ হিসেবে গড়ে তুলতে কর, ভ্যাট ও লাইসেন্সিং নীতিমালায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের টেলিকম খাতে মোট করের হার প্রায় ৫০ শতাংশ, আর তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এটি প্রায় ২৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অনেক বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
এই উচ্চ করের হার ধাপে ধাপে যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার অংশ হিসেবেই সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আদায় প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে সচল মোবাইল সিমের সংখ্যা ৩২ থেকে ৩৩ কোটির মধ্যে। এই পরিসংখ্যানের কারণে টেলিকম খাত ইতিমধ্যেই একটি পরিপক্ব বাজারে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে, দেশে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড বা বাসাবাড়ির ইন্টারনেট ব্যবহার এখনো মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ মানুষের মধ্যে সীমিত। সম্ভাবনাময় এই খাতে কাঙ্ক্ষিত বিস্তার ঘটাতে বাজেটে আলাদা কোনো বড় প্রণোদনা না থাকায়, বরং মোবাইল অপারেটরদের পক্ষেই সুবিধা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা।