বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি জুন মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন ৪ জন এবং বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।
রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই নারীর বয়স ২৬ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।
তাদের একজন বরিশাল বিভাগের একটি হাসপাতালে এবং অন্যজন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে গত ১ ও ১৬ জুন ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যাদের মধ্যেও একজন নারী ছিলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ২২০ জন রোগী। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯০০ জনে। তবে আশার কথা হলো, একই সময়ে নতুন করে ১৫৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং সবমিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪ হাজার ৫৬৮ জন।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে, যার সংখ্যা ৫৪ জন। সংক্রমণের দিক থেকে এর পরেই রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে ৫২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা মহানগরের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় ৪৪ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২৯ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬ জন, সিলেট বিভাগে ৪ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। বর্ষার জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তন, অস্বাভাবিক আবহাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা এবং দ্রুত নগরায়ণের ফলে ডেঙ্গুর মৌসুমি ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, এটাই এডিস মশার বংশবৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। যে কোনো মুহূর্তে এডিস মশার প্রকোপ আরও তীব্র হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে বরিশাল বিভাগে এবং ঢাকার মধ্যে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, বর্তমান ডেঙ্গু সংক্রমণের হারের তুলনায় এডিস মশা নিধনে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম মোটেও সন্তোষজনক নয়। এই মুহূর্তে মহামারি এড়াতে বড় ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।