বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে জনবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এই বাজেটে ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং জনগণের কল্যাণে সরকারের অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব সফরের চুক্তি ও অর্জন সম্পর্কে সরকার সংসদ ও জাতির সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে।
তিনি বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সহায়তা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ওষুধ শিল্পে প্রণোদনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বাজেটের মূল বার্তা হলো জনগণের পাশে থাকা।
পার্থ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার ও মানবিকতা অপরিহার্য, যা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ব্যবস্থারও মূল ভিত্তি ছিল। একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে এই নীতিগুলো অনুসরণ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছে, যাদের সঠিক সুযোগ দিতে হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার নাহিদ রানার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধাবীদের সামনে আনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
যাকাত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে তিনি যাকাতগ্রহীতাদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, প্রতি আসনে যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হলে দেশি-বিদেশি দাতারা সহজে যাকাত প্রদান করতে পারবেন। এ উদ্দেশ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ চালুর পাশাপাশি যাকাত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিশেষায়িত টিভি চ্যানেলের প্রস্তাবও দেন তিনি।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, প্রচলিত ব্যবস্থা থেকে একদিনে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও এ খাত সম্প্রসারণে সরকারের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ইসলামী অর্থায়ন জনপ্রিয় হচ্ছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রসার ঘটানো উচিত।
তিনি বলেন, কিছু ব্যাংকে অনিয়মের দায় ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার নয়, বরং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর দুর্নীতির কারণে এসব সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে পারে।
রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতীত দুর্বলতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সময়ে ব্যাংক লুট বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়নি।
ভোলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, বিপুল গ্যাস মজুত থাকায় ভোলাকে দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। তিনি বিমানবন্দর, হাসপাতাল, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য পৃথক ভোলা উন্নয়ন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।
শেষে তিনি বাজেটকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে জাতীয় ইস্যু হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।