বঙ্গভবন কেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক টানাপোড়েন
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। মে মাসে লন্ডনে অবস্থানকালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তার এক গোপন ফোনালাপের অভিযোগ এই আলোচনার মূল অনুঘটক।
আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সূত্রে বিষয়টি জানার পর রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক রাজনৈতিক মহল দাবি করছে।
তবে এই অভিযোগ বা ফোনালাপের বিষয়ে বঙ্গভবন কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো দাপ্তরিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
স্পিকারের সফরসংক্ষেপ ও সাংবিধানিক আইনি পথরেখা
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপ্রধানকে পদত্যাগ করতে হলে তা জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট জমা দিতে হয়। এ উদ্দেশ্যে সরকারের বিশেষ বার্তায় ব্যাংককে চিকিৎসাধীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
তবে পদত্যাগের সময়সীমা নিয়ে রাষ্ট্রপতি কিছুটা অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রেস সচিবের তথ্যমতে, তিনি এখনও পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেননি, তবে বিষয়টি সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেছেন যে, শারীরিক অসুস্থতা বা ব্যক্তিগত কারণে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক নিয়ম মেনে যেকোনো সময় পদত্যাগ করার অধিকার রাখেন। এ বিষয়ে সরকার থেকে আলাদা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা ও ক্ষমতার নতুন পুনর্বিন্যাস
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষমতাচ্যুত নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগের অভিযোগ ওঠায় জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরনো রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক পুনরুজ্জীবিত হওয়া ঠেকাতে সরকার কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রপতি পদে সাহাবুদ্দিন বহাল ছিলেন। তার এই সম্ভাব্য বিদায়কে জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় 'পুরনো শাসন ব্যবস্থার চূড়ান্ত অবসান' হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাজনীতিমুক্ত কোনো বিশিষ্ট নাগরিক, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা দক্ষ সাবেক কূটনীতিকদের নাম আলোচনায় আসছে।
আগামী ২৯ জুলাই বঙ্গভবনের নির্ধারিত কর্মসূচির আগেই এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।