আজারবাইজান-ইরাক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে কূটনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে আজারবাইজান ও ইরাক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সফরে তিনি আজারবাইজানে উচ্চপর্যায়ের একটি সভা এবং ইরাকে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নেবেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবির জানান, আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশটিতে অবস্থান করবেন। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির পদক্ষেপবিষয়ক সম্মেলনের (সিআইসিএ) আওতায় আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশ নেবেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ওই সভায় বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রনীতি, নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের জন্য মধ্য এশিয়ার সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পররাষ্ট্রনীতির কার্যক্রম সম্প্রসারণে অঞ্চলটিকে নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বহুমুখী করার ক্ষেত্রে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজারবাইজান সফর শেষে ১৭ অক্টোবর ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যাবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সেখানে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন এবং দেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাগদাদের এই বৈঠককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার পর ইরাকে উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, গত দুই দশকের অস্থিরতা পেরিয়ে ইরাকে যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অস্থিতিশীলতায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরাকসহ বৃহত্তর অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, এ অঞ্চলে প্রায় ৮০ লাখ বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির মধ্যে প্রবাসীদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সার্বিক মঙ্গল সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানিস্বার্থের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে।

হুমায়ুন কবির জানান, সংঘাত নিরসনে বিভিন্ন পক্ষ আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক ও পর্দার আড়ালেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবদান রাখার কোনো প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।