তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) ঢাকায় পা রাখছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিশিষ্ট সদস্য ডাচেস অব এডিনবার্গ সোফি।
যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অংশীদারত্ব আরও জোরালো করতে তার এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সফরকালে তিনি রাজধানী ঢাকা এবং পর্যটন নগরী কক্সবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন।
বাকিংহাম প্যালেস থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সোফির এই বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সফরের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার তাকে বিশেষ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী তিনি দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কঠোর নিরাপত্তায় থাকবেন।
তিন দিনের সফর শেষ করে আগামী বুধবার (১১ নভেম্বর) তার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে ডাচেস অব এডিনবার্গ দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
প্রেসিডেন্সিয়াল ভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের সঙ্গেও তার একান্ত বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা খুব কাছ থেকে দেখতে তিনি বিপসট পরিদর্শন করবেন।
সেখানে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নারী সদস্যদের অসাধারণ অবদান সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত ধারণা লাভ করবেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) তরুণ ক্রীড়াবিদ ও নারী হকি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবেন তিনি।
খেলাধুলার মাধ্যমে নারী ও তরুণী সমাজের সাবলম্বী হওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এই সাক্ষাৎ বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্যাপনে আয়োজিত এক বিশেষ তরুণ সমাবেশেও অংশ নেবেন রাজপরিবারের এই সদস্য।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধানত শিক্ষা সম্প্রসারণ, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গগুলো বিশেষভাবে আলোচিত হবে।
ঢাকার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি দক্ষিণ অঞ্চলের উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
সেখানে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন তিনি।
বাস্তুচ্যুত নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের নেতৃত্ব বিকাশে গ্রহণ করা বিভিন্ন উদ্যোগ সরেজমিন ঘুরে দেখবেন সোফি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের পর এটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য সোফির দ্বিতীয় বাংলাদেশ সফর।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দফতরের (এফসিডিও) সরাসরি অনুরোধের প্রেক্ষিতেই তিনি এই সফরে এসেছেন।