গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যার প্রাচীন কেন্দ্র 'মুরৈনা গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়'

প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়।

এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।

ভারতের চম্বল বিভাগে অবস্থিত মুরৈনা গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের খবর অষ্টম শতাব্দী থেকে জানা যায়। মিতাবলীর চৌষট্টি যোগিনী মন্দিরের একটি শিলালিপিতে গুর্জর প্রতিহর কর্তৃক মিতাবলী পদাবলী এবং ওয়ারি বটেশ্বর মন্দির উল্লেখ রয়েছে যা প্রকৃত পক্ষে একটি বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীকালে কচ্ছপঘাটা শাসকগণ এটি সংস্কার ও সম্প্রসারণ করেন।

মুরৈনা গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়

তৎকালীন সময়ে চৌষট্টি যোগিনী উচ্চশিক্ষায়তন সম মন্দিরে গণিত ও জোতির্বিদ্যার পঠন পাঠন চলতো। সুনির্দিষ্ট গণনার জন্য পণ্ডিতবৃন্দ মন্দিরের বৃহদাকার কাঠামোর স্বতন্ত্র নকশা এবং প্যাটার্নে রশ্মি ও ছায়া দেখে প্রহর নির্ণয় করতেন। সূর্যের রশ্মি ছিল বটেশ্বর মন্দিরের কেন্দ্র এবং গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়াস।

লেখক: শিক্ষক, গবেষক 
চেয়ারম্যান (অব)
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড।