রহস্য ও গৌরবে ঘেরা বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬ এএম

প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়।

এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।

পাল যুগে ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধ শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পীঠস্থান একটি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যটি বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়। বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষক ধর্মপাল (রাজত্ব: ৭৭৫-৮২০খ্রি.) বিহার ভাগলপুরে বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলা ও বিহারে পাল শাসকরা শিক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। অষ্টম শতকে উত্তর মগধের গঙ্গার তীরে পাল আমলে প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০০ এরও অধিক বিদ্যার্থীকে পড়াতেন ১৪৪ জন স্থায়ী পণ্ডিত।

বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু মন্দির ও ধর্মালয় পরিচালনার জন্য ১০৮ জন আচার্য দায়িত্ব পালন করতেন। অতিরিক্ত ৬ জন পণ্ডিত সাধারণ ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত থাকতেন। অসংখ্য জ্ঞানী ব্যক্তিদের আগমন ঘটতো এ বিশ্ববিদ্যালয়য়ে, তাই এর সুনাম পৃথিবীর অনেক দেশেই ছড়িয়ে গিয়েছিল। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য তিব্বত থেকে সর্বাধিক বিদ্যার্থীর আগমন ঘটতো এখানে।

বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়

পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিতভাবে ৬টি কলেজ এর সাথে অধিভুক্ত হয়। এবং ছয়টি পৃথক গেট যা প্রত্যেকটি গেটের সাথে সংযোগ করে বৃহৎ ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনের নামকরণ করা হয় বিজ্ঞান ভবন। এই ভবনের মূলগেটে প্রধান পণ্ডিতকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত ভাবে বিদ্যার্থী ভর্তির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। মহাধ্যক্ষ/মহাচার্যই ছিলেন প্রধান কর্তৃপক্ষ যার অধীনে/নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় এর সকল কার্যাদি সম্পন্ন হতো।

বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়

Mahashavir was highest authority of the university the general management was carried on under his guidence. He was called the Kalpati of the Gurukula and elected with great care.

বিক্রমশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠিত বিষয়গুলোর মধ্যে দর্শন, তন্ত্রশাস্ত্র এবং কর্মকাণ্ডই প্রধান। তবে পরবর্তী কালে যার দ্বারা তন্ত্রশাস্ত্রই বিশেষভাবে প্রসিদ্ধি লাভ যার দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব রাখে। অর্জিত স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সমূহ বাংলার তৎকালীন শাসকদের উপস্থিতিতে আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান সমাবর্তনের মাধ্যমে প্রদান করা হতো। বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮২-১০৫৪খ্রি.) এই বিশ্ববিদ্যালয় একজন খ্যাতিমান বিদ্যার্থী ছিলেন।

লেখক: শিক্ষক, গবেষক 
চেয়ারম্যান (অব)
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড।

YA
আরও পড়ুন