বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেছেন যে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, ‘তিস্তা এই অঞ্চলের মানুষের অহংকার ছিল, কিন্তু এখন এটি এক সাগর দুঃখে পরিণত হয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি, এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন আমাদের অগ্রাধিকার।’
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের যৌথ আয়োজনে তিস্তা ব্যারেজ হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘যারা জাতির সঙ্গে দীর্ঘসময় বেঈমানি করেছে, আগামী নির্বাচন তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। রাজনীতির নামে আমরা ব্যবসা বা চাঁদাবাজি করতে আসিনি; এটি হবে রাজার নীতি। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পূর্ব আকাশে একটি নতুন সূর্যের উদয় হবে। আমরা একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা উত্তরবঙ্গকে দেশের ‘কৃষিভিত্তিক রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তুলব। বুড়িমারি স্থলবন্দরকে আধুনিকায়ন করা হবে। তিস্তা নদীর পানি সারা উত্তরবঙ্গকে উর্বর করে তুলবে এবং নদীভাঙনে আর কাউকে নিঃস্ব হতে হবে না।’
বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা বসন্তের কোকিল নই যে শুধু সুসময়ে দেখা দেব। আমরা বিপদেও মানুষের পাশে আছি। আমরা মাটি কামড়ে পড়ে থাকি, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাই না।’
নারী অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এদেশের ৯ কোটি নারী আমাদের মা-বোন। তাদের মর্যাদা ও শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। কর্মক্ষেত্রে তারা নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে কাজ করবেন। প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও মা-বোনের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেব না।’
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১২ তারিখ আমাদের দুটি ভোট। একটি সংসদ নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। আমরা সবাই ‘হ্যাঁ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করব।’
লালমনিরহাট জেলা আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। ভাষণ শেষে জামায়াত আমির নীলফামারীর ৪টি ও লালমনিরহাটের ৩টি আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের হাতে দলের নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন।