দলীয়করণের মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করা হচ্ছে: কামাল হোসেন এমপি

সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মেধার ভিত্তিতে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন এমপি।

 

তিনি বলেন, দলীয়করণের মাধ্যমে জাতিকে মেধাশূন্য করা হচ্ছে। অযোগ্য ও অদক্ষ ব্যক্তিদের দলীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার ফলে তারা দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে গিলে খাচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে মেধার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

 

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতির জঞ্জাল। দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বের সঙ্কটে জাতি বারবার প্রতারিত হচ্ছে।’

 

রাষ্ট্রের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সদস্য হওয়ায় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির চিত্র কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। একটি প্রতিষ্ঠানের অডিটে ৫২৪টি অডিট আপত্তি রয়েছে।’ এসব আপত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গত দুই বছরে মাত্র একটি আপত্তি নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে যদি দুই বছর সময় লাগে, তাহলে অবশিষ্ট ৫২৩টি আপত্তি নিষ্পত্তি করতে ১ হাজার ৪৬ বছর সময় লাগবে। এটাই বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র। প্রতিটি অডিট আপত্তির অঙ্ক অনেকের পক্ষে সংখ্যায় লিখে প্রকাশ করাও কঠিন। হাজার হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি বছরের পর বছর ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।’

 

কামাল হোসেন আরো বলেন, ‘হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় দেশকে এখনো পাঁচ বছর পিছিয়ে রেখেছে। প্রতিটি অডিট আপত্তি ২০২০ ও ২০২১ সালের। ক্যালেন্ডারের পাতায় ২০২৬ সাল শেষ হতে যাচ্ছে, অথচ বাংলাদেশ এখনো পাঁচ বছর আগের অডিট করছে।’ তাহলে দেশ কীভাবে এগিয়ে যাবে?

 

তিনি মনে করেন, দুর্নীতিমুক্ত না হলে দেশ এগোবে না। তাই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং তাদের হাত ধরেই দেশ দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধশালী হবে।

 

আলোচনা সভা শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নেন তিনি। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো: রইছ উদ্দীন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো: শেখ গিয়াস উদ্দিন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।