সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে কেবল নিজেদের সুরক্ষার লক্ষ্যেই সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
সম্প্রতি ‘ভয়েস ফর রিফর্ম’সহ কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ‘সাইবার সুরক্ষা, না কণ্ঠরোধ’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার মূলত নাগরিকদের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করতে এবং ভিন্নমত দমন করতেই এই ধরনের আইন তৈরির প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
সরকারের নীতির সমালোচনা করায় ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তার নামক এক নাগরিকের গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান এনসিপির এই নেতা।
তার মতে, কর্র্তৃপক্ষ কখনোই চায় না তাদের সরবরাহ করা খবরের বাইরে সাধারণ মানুষ অন্য কোনো সত্য তথ্য বা সংবাদ জানতে পারুক।
স্বৈরাচারী মনোভাবের পথে যেসব আইনি বাধা ছিল, সরকার শুরু থেকেই একে একে সেই বাধাগুলো অপসারণ করছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
আইজিপির সাম্প্রতিক ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্যকে সরকারের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আখতার হোসেন তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি মনে করেন, সরকারের সবুজ সংকেত ও পূর্বপ্রস্তুতি না থাকলে পুলিশ প্রধান এমন মন্তব্য করার সাহস পেতেন না।
এদিকে সংলাপের মূল আলোচনায় অংশ নিয়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আইনে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখার ওপর জোর দেন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জুয়া বা অনলাইন প্রতারণার মতো সাইবার অপরাধ রোধে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে।
তবে এর পাশাপাশি সরকার বা রাজনৈতিক নীতির সমালোচনাকে কোনোভাবেই মানহানির অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
আইনের অপব্যবহার রোধে সুনির্দিষ্ট এবং ফাঁকফোকরমুক্ত বিধান রাখার দাবি জানান তিনি।
উক্ত নাগরিক সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন ডেইলি স্টারের সাবেক সম্পাদক শফিকুল আলম, নাবিলা ইদ্রিস, ডা. তাজনূভা জাবিন, সারোয়ার তুষার এবং ফাহিম মাশরুর।
এ সময় বক্তারা মানহানি মামলা সাইবার আইনের আওতামুক্ত রাখা এবং অপরাধসমূহকে মোবাইল কোর্টের বদলে জামিনযোগ্য হিসেবে বিবেচনার জোরালো সুপারিশ করেন।