গোসল ফরজ অবস্থায় দোয়া পড়ার বিধান

বিভিন্ন কারণে মানুষের শরীর অপবিত্র হয়। কিছু কিছু অপবিত্রতা থেকে অজুর মাধ্যমে পবিত্র হওয়া যায় আর কিছু কিছু অপবিত্রতা থেকে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। যেমন, স্ত্রী সহবাস ও স্বপ্নদোষ, মেয়েদের হায়েজ-নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পর গোসল করা ফরজ।

এসব কারণে কারো শরীর অপবিত্র হলে যতদ্রুত সম্ভব গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে নেওয়া। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন মানুষদের ভালোবাসেন। কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা তাওবা, আয়াত : ১০৮)

কারও উপর এইসব কারণে গোসল ফরজ হলে গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন না করে নামাজ আদায় করা, কোরআন শরিফ স্পর্শ করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, মসজিদে অবস্থান করা, কাবা ঘর তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ।

তবে গোসল ফরয অবস্থায় চাইলে দৈনন্দিনের মাসনুন দোয়া, যেমন, বাথরুমে প্রবেশের দোয়া, ঘুমানোর দোয়া, ঘুম থেকে উঠার দোয়া পড়া যাবে। তাই এই সময় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়াসমূহ পড়তে পারবেন। তবে এ অবস্থায় কোরআন মাজিদ তিলাওয়াত করা যাবে না।

(জামে তিরমিজি, হাদিস : ১৩১; ফাতহুল কাদীর ১/১৪৯)

ফরজ গোসল কি দেরি করে করা যায় নাকি সঙ্গে সঙ্গেই করে নিতে হয়?

১. ফরজ গোসল যথাসম্ভব দ্রুত করে নেওয়া মুস্তাহাব বা ভালো, ওয়াজিব বা আবশ্যক নয়।

২. ফরজ গোসল এতো দেরি করে করা উচিত নয় যে, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হয়ে যায়। নামাজ কাজা করা নিঃসন্দেহে কবিরা গুনাহ। ফরজ গোসল করতে না পারার জন্য নামাজ কাজা করার অজুহাত শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. ফরজ গোসল দেরি করেও করা যায়। তবে এক্ষেত্রে সুন্নাত হলো, ভালো করে অজু করে নেওয়া। হজরত আয়শা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) এর গোসল ফরজ হলে তিনি যদি পরে গোসল করতে চাইতেন, কিংবা কিছু খেতে অথবা ঘুমাতে চাইতেন, তাহলে নামাজের অজুর মত অজু করে নিতেন। (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ৩০৫)

অনেকে মনে করেন, গোসল ফরজ হলে দেরি করলে পাপ হবে বা সে অবস্থায় মাটির উপর হাঁটলে মাটি অভিশাপ দিবে। আলেমদের মতে এ সকল কথা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। গোসল ফরজ হলে তা যথাসম্ভব দ্রুত সেরে নেয়া উত্তম।