ধৈর্য নিয়ে হাদিসে যা আছে

ধৈর্য মহৎ গুণ। পৃথিবীতে মানবসমাজ স্থিতিশীল রাখতে মানুষকে ধৈর্যশীল হওয়ার বিকল্প নেই। ধৈর্য ধারণকারীর সাফল্য সুনিশ্চিত। আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।

আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনরা, ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে তোমরা সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

ধৈর্যে মেলে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সন্তুষ্টি। তাঁর শাফায়াত। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের যে ব্যক্তি মদিনার দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদে ধৈর্য ধারণ করবে, তার জন্য আমি কিয়ামতের দিন শাফায়াতকারী হব অথবা তার পক্ষে সাক্ষী হব।’ (মুসলিম, হাদিস: ৩২৩৮) 

আরেক হাদিসে আছে, ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি কবরের কাছে উপস্থিত এক নারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন কাঁদছিল। তিনি বললেন, আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধরো।’ (বুখারি, হাদিস: ১২৫২)

ধৈর্য উত্তম চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। ধৈর্যশীল ব্যক্তি কখনো কাউকে প্রথমে আঘাত করতে পারে না। সাবিত (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আনাস ইবনে মালেক (রা.)-কে বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রথম আঘাতেই ধৈর্য ধারণ করা হচ্ছে প্রকৃত ধৈর্য।’ (মুসলিম, হাদিস: ২০২৪)

আরেক হাদিসে আছে, আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, কিছু সংখ্যক আনসারি সাহাবিকে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছন, যে চাওয়া থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন। যে পর মুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। যে ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (বুখারি, হাদিস: ১৪৬৯)

দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী, কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। তাই বিচ্ছেদ এই দুনিয়ার খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। কারও বিচ্ছেদে ধৈর্য ধরতে হবে। আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান চাইতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমি যখন আমার মুমিন বান্দার কোনো প্রিয়বস্তু দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেই আর সে ধৈর্য ধারণ করে, আমার কাছে তার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কিছু (প্রতিদান) নেই।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৪২৪)