ইসলামের আগে মধ্যপ্রাচ্যে যেভাবে পালিত হত রোজা

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭ পিএম

এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের আনন্দ মুসলমানদের জীবনে আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতার প্রতীক। ইসলামে রোজা অন্যতম মৌলিক ইবাদত হলেও, খাদ্য থেকে বিরত থাকার এই চর্চা মানব ইতিহাসে বহু পুরোনো। ধর্ম, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক সাধনার নানা পর্যায়ে উপবাস ছিল আত্মশুদ্ধি, অনুশোচনা ও সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ উপায়।

প্রাচীন মিশরের আচার ও বিশ্বাস

প্রাচীন মিশরে উপবাস ছিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ। দেবতাদের সন্তুষ্ট করা এবং আত্মাকে শুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উৎসব ও ধর্মীয় উপলক্ষে তারা উপবাস পালন করত।

গবেষকদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে—কেউ বলেন এটি মূলত পুরোহিতদের অনুশীলন, আবার কেউ মনে করেন সাধারণ মানুষও এতে অংশ নিত। কিছু ঐতিহাসিকের মতে, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উপবাসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি উপবাসও প্রচলিত ছিল, যা কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারত।

পারস্য ও কুর্দি ঐতিহ্যের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি

প্রাচীন পারস্যে প্রচলিত জরথুস্ত্রবাদে দীর্ঘ উপবাসকে তেমন উৎসাহ দেওয়া হতো না। তাদের ধারণা ছিল, শারীরিক দুর্বলতা আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য সহায়ক নয়।

অন্যদিকে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন দিনের রোজা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাদ্য ও পানীয় বর্জন করা হয়, আর ধর্মীয় নেতারা কখনও দীর্ঘ উপবাসের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক মর্যাদা অর্জনের চেষ্টা করেন।

ইহুদি ধর্মে প্রায়শ্চিত্তের দিন

ইহুদিধর্মে উপবাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হলো ইয়োম কিপুর—প্রায়শ্চিত্তের দিন। সূর্যাস্ত থেকে পরদিন রাত পর্যন্ত দীর্ঘ উপবাসের মাধ্যমে বিশ্বাসীরা আত্মসমালোচনা করেন এবং পাপমোচনের প্রার্থনা করেন।

খ্রিষ্টধর্মে আত্মসংযমের অনুশীলন

খ্রিষ্টধর্মে উপবাস আধ্যাত্মিক অনুশীলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে ইস্টারের আগে দীর্ঘ উপবাসের সময় বিশ্বাসীরা খাদ্যসংযমের পাশাপাশি প্রার্থনা ও দানশীলতার মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির চেষ্টা করেন।

এক ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য

ইতিহাসের নানা স্তর পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, উপবাস শুধু ধর্মীয় বিধান নয়—এটি মানুষের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের অংশ। কখনও দেবতার সন্তুষ্টি, কখনও পাপমোচন, আবার কখনও আত্মনিয়ন্ত্রণের অনুশীলন—বিভিন্ন লক্ষ্যেই যুগে যুগে উপবাসের চর্চা গড়ে উঠেছে।

ইসলামে রমজানের রোজা সুসংগঠিত বিধান ও সময়সীমার মধ্যে পালিত হলেও, তার শিকড় মানবসভ্যতার বহু পুরোনো আধ্যাত্মিক চর্চার সঙ্গে যুক্ত। তাই উপবাসকে বলা যায় মানব ইতিহাসের এক বহুমাত্রিক ঐতিহ্য, যা ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে ভিন্ন অর্থে বিকশিত হয়েছে।

AS/AHA
আরও পড়ুন