রমজান—আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। এ মাসে ইবাদতের আমেজ যেমন গভীর হয়, তেমনি রাতের নির্জনতায় বিশেষ গুরুত্ব পায় তাহাজ্জুদ নামাজ। ইসলামী শিক্ষায় ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম ইবাদত হিসেবে বিবেচিত এই নফল সালাত রমজানে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কোরআনে মহান আল্লাহ প্রিয় নবী (সা.)–কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাতের একটি অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করতে, যা তাঁর জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং যার মাধ্যমে প্রশংসিত মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হওয়ার আশা করা যায় (সুরা ইসরা, আয়াত ৭৯)। একইভাবে সুরা মুজাম্মিলে রাতের ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও একাগ্র স্মরণের গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদ (মুসলিম, ৪০৫)। তিনি সারা বছরই নিয়মিত এ নামাজ আদায় করতেন, যা তাঁর সুন্নত হিসেবে মুসলমানদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে আছে।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, রাত জেগে ইবাদতকারীরা আধ্যাত্মিক উন্নতিতে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। তাহাজ্জুদের সময় নির্ধারিত হয় রাতের শেষ তৃতীয়াংশ থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত। এশার পর ঘুমিয়ে উঠে নামাজ আদায় করা উত্তম বলে উল্লেখ রয়েছে।
রমজানে সাহ্রির জন্য জেগে ওঠার কারণে তাহাজ্জুদ আদায় তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়। দুই রাকাত করে আট, বারো বা সামর্থ্য অনুযায়ী কম–বেশি রাকাত পড়া যায়। ইসলামী বর্ণনায় এসেছে, রমজানে নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান এবং ফরজের সওয়াব বহু গুণ বৃদ্ধি পায়—যা এ সময়ের ইবাদতকে আরও তাৎপর্যময় করে তোলে।
হজরত আয়েশা (রা.) ও উম্মে সালামা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো তিনটি আমল ত্যাগ করেননি—তাহাজ্জুদ, প্রতি চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা এবং রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ (বুখারি, ১৯৭৫)।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজে রাতে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে এবং তার সঙ্গীকেও জাগায়, আল্লাহ তার প্রতি রহম করেন (আবু দাউদ ও নাসায়ি, ৪০৭)।
এছাড়া সহিহ বুখারির এক হাদিসে বর্ণিত কুদসি বাণীতে আল্লাহ বলেন, বান্দা ফরজের মাধ্যমে তাঁর নৈকট্য লাভ করে এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে আরও নিকটবর্তী হলে আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন; তখন তাঁর দোয়া কবুল ও আশ্রয় প্রার্থনা গ্রহণ করা হয় (বুখারি, ৬৫০২)।
হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে পর্যালোচনা করা হবে : ধর্মমন্ত্রী
রমজানের তিন দশকের বিশেষ দোয়া ও আমল
