পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ‘চুরি’ করছে চাঁদ?

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণা কোটি কোটি বছর ধরে চাঁদে গিয়ে জমা হচ্ছে—সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের দাবি, সূর্য থেকে আসা শক্তিশালী ‘সৌরবায়ু’ (Solar Wind) পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের মতো গ্যাসীয় কণাগুলোকে উড়িয়ে নিয়ে চাঁদের মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

নিউ ইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তাদের এই গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র (Magnetic Field) বায়ুমণ্ডলের এই কণাগুলোকে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়তে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে উল্টো চাঁদে পৌঁছাতে সহায়তা করে। যখন চাঁদ তার কক্ষপথে ঘোরার সময় পৃথিবীর চৌম্বকীয় লেজ বা ‘ম্যাগনেটোটেইল’ (Magnetotail)-এর মধ্য দিয়ে যায়, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কণাগুলো সরাসরি চাঁদের পৃষ্ঠে গিয়ে আঘাত করে।

১৯৭০-এর দশকে অ্যাপোলো মিশনগুলো চাঁদ থেকে যে মাটি ও পাথরের নমুনা এনেছিল, তাতে পানি, কার্বন ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেনের উপস্থিতি দেখে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়েছিলেন। এতকাল ধারণা করা হতো এগুলো কেবল সূর্যের প্রভাবে হয়েছে। তবে রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক শুভঙ্কর প্রামাণিক এবং অধ্যাপক এরিক ব্ল্যাকম্যানের এই নতুন গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, এই উপাদানগুলোর বড় একটি অংশ আসলে আমাদের পৃথিবী থেকে যাওয়া।

গবেষকরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের বসতি গড়তে বড় ভূমিকা রাখবে। চাঁদের মাটিতে থাকা এই পৃথিবীজাত অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন থেকে নভোচারীরা জ্বালানি এবং নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন তৈরি করতে পারবেন। ফলে পৃথিবী থেকে সম্পদ বহনের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে আসবে।

সম্প্রতি চীনের চ্যাং-ই-৫ এবং চ্যাং-ই-৬ মিশনের আনা নমুনাগুলো এই গবেষণার ফলাফলকে আরও নিখুঁতভাবে যাচাই করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, পৃথিবী ও চাঁদ কেবল একে অপরের চারদিকে ঘোরেই না, বরং বিলিয়ন বছর ধরে রাসায়নিকভাবেও একে অপরের সাথে যুক্ত।