সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই ক্যামেরা

রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক আইন ভাঙার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)নির্ভর ক্যামেরা। এখন লালবাতি অমান্য, ফুটপাতে মোটরসাইকেল চালানো, উল্টোপথে যাওয়া বা দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো—সব কিছুই ধরা পড়ছে এই ক্যামেরায়। আর মামলার নোটিশ পৌঁছে যাচ্ছে গাড়ির মালিকের মোবাইলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
গত ১ মে পরীক্ষামূলক শুরু হলেও এখন পুরোদমে চালু হয়েছে ডিজিটাল মামলা কার্যক্রম। ট্রাফিক পুলিশকে আর সব সময় রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে না। ক্যামেরা নিজেই আইনভঙ্গের ঘটনা শনাক্ত করে, নম্বরপ্লেটের তথ্য ও ভিডিও সংগ্রহ করে এবং সেই অনুযায়ী মামলা করে।
ডিএমপি ও দুই সিটি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে শাহবাগ, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর, বিজয় সরণিসহ ৭-৮টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এসব ক্যামেরা শুধু সিগন্যাল ভাঙা নয়, বরং উল্টোপথে গাড়ি চালানো, জেব্রা ক্রসিং দখল, সিটবেল্ট ও হেলমেট না পরা, মোবাইল ফোনে কথা বলা, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, ভিআইপি লাইটের অপব্যবহার এমনকি গাড়ির ফিটনেস ও কাগজপত্রের মেয়াদও যাচাই করছে।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতেও গতিনিয়ন্ত্রণ ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হচ্ছে।

গত ৪-৭ মে পর্যন্ত চার দিনে এআই ক্যামেরার সাহায্যে ৩০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও জাহাঙ্গীর গেট সিগনাল উল্লেখযোগ্য। ফার্মগেট মোড়েও ক্যামেরা বসানোর কাজ চলছে।

ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছেন, আগে আইনভঙ্গকারীকে থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করতে দীর্ঘ সময় লাগত। এখন প্রযুক্তির কারণে কম জনবল দিয়েও কার্যকর নজরদারি সম্ভব হচ্ছে।
যেসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তার নোটিশ গাড়ির মালিকের ঠিকানা ও মোবাইলে পাঠানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি না করলে কঠোর ব্যবস্থা, এমনকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।
অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। ট্রাফিক সদস্যরা ভিডিও ধারণ করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠান, পরে মামলা হয়।
তবে নতুন এই ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়েছে। ট্রাফিক মামলার ভয় দেখিয়ে ফোনে টাকা দাবি করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, কোনো মামলার টাকা ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দেওয়া যাবে না, সরকারি নিয়মেই জরিমানা দিতে হবে।

AI

জনগণের প্রতিক্রিয়া
•    প্রাইভেটকার চালক ওসমান গণি বলেন, সিটবেল্ট নিয়ে অনেকের উদাসীনতা ছিল। এখন নিয়ম না মানলেই মামলা, তাই সবাই বাধ্য হয়ে মানছে।
•    মোটরসাইকেল আরোহী ফিরোজ মিয়া বলেন, আগে জেব্রা ক্রসিংয়ে বাইক দাঁড় করানো যেত, এখন সবাই নির্ধারিত লাইনের পেছনে দাঁড়াচ্ছে। এটা ভালো পরিবর্তন।
•    পথচারী বিলকিস আরা সুমি বলেন, আগে রাস্তা পার হতে ভয় লাগত। এখন মানুষ আইন মানছে, কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।
ট্রাফিক পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রযুক্তির কারণে আইন প্রয়োগ সহজ হচ্ছে। উবার-পাঠাও চালকরাও সচেতন হচ্ছেন। এতে সড়কে শৃঙ্খলা বাড়বে এবং দুর্ঘটনা কমবে।
ডিএমপির কর্মকর্তাদের দাবি, ডিজিটাল নজদারিতে যানবাহনের গড় গতি বেড়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েতে এই প্রযুক্তি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শুধু আইন প্রয়োগ নয়, নগরজীবনের শৃঙ্খলা ও সড়ক নিরাপত্তার জন্যও জরুরি। তবে এর কার্যকারিতা ধরে রাখতে স্বচ্ছতা, জনসচেতনতা ও সঠিক আইনি প্রয়োগ নিশ্চিত করা আবশ্যক।