মানুষের মতোই খেলছে রোবট, বিশ্বকে তাক লাগালো টয়োটা

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

টয়োটা বললেই সবার চোখে ভেসে ওঠে ক্যামরি বা করোলা গাড়ির ছবি। কিন্তু সম্প্রতি টোকিও’র একটি বাস্কেটবল অ্যারেনায় প্রায় ৮,৪০০ দর্শকের সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চমক দেখালো প্রতিষ্ঠানটি। কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই বাস্কেটবল ড্রিবলিং করা এবং নিখুঁতভাবে ‘ফ্রি থ্রো’ করতে সক্ষম একটি হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো) রোবট উন্মোচন করেছে তারা, যার নাম ‘CUE7’।

টয়োটার সবচেয়ে উন্নত এআই-চালিত হিউম্যানয়েড রোবট এটি। ৭ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার এই রোবটটি বসে থাকা অবস্থা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে দাঁড়িয়ে বাস্কেটবল নিয়ে মাঠে নামে এবং অত্যন্ত সাবলীলভাবে ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ করে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে, যেখানে কোনো মানুষের ইনপুট প্রয়োজন হয়নি।

২০১৭ সালে টয়োটার একদল কর্মীর শখের প্রজেক্ট হিসেবে শুরু হওয়া এই রোবট সিরিজের সপ্তম সংস্করণ হলো CUE7। এর আগে CUE3 টানা ২,০২০টি ফ্রি থ্রো করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছিল। তবে এবারের বিশেষত্ব হলো, ইঞ্জিনিয়াররা আগের সব প্রোগ্রামিং ফেলে দিয়ে এই রোবটটিকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে ‘রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং’ (Reinforcement Learning) প্রযুক্তিতে তৈরি করেছেন।

যেভাবে কাজ করে CUE7: আগের রোবটগুলো মানুষের শেখানো প্রোগ্রাম অনুযায়ী চলত, কিন্তু CUE7 নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শেখে। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • এআই চালিত মস্তিষ্ক: এটি কোনো নির্দিষ্ট স্ক্রিপ্ট মেনে চলে না, বরং ট্রায়াল এবং এরর (Trial and Error) বা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করে।

  • অত্যাধুনিক সেন্সর: এর মাথায় রয়েছে স্টেরিও ক্যামেরা এবং শরীরে আছে ‘লাইডার’ (LiDAR) সেন্সর। এগুলো দিয়ে রোবটটি দূরত্ব মেপে এবং বাতাসের গতিবেগ বুঝে বল ছোঁড়ার নিখুঁত কোণ তৈরি করে।

  • হালকা ও গতিশীল: আগের সংস্করণের চেয়ে এটি প্রায় ৪০ শতাংশ হালকা। চার চাকার বদলে দুই চাকা ব্যবহার করায় এর নড়াচড়া অনেক বেশি সাবলীল ও মানুষের মতো।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কেন বাস্কেটবল রোবট বানাচ্ছে? টয়োটার মতে, বাস্কেটবল এমন একটি খেলা যেখানে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা, দূরত্ব পরিমাপ, গতির হিসাব এবং নিখুঁত শক্তির ব্যবহার—সবই একসাথে করতে হয়। এই দক্ষতাগুলোই ভবিষ্যতে কারখানার রোবট বা স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে ব্যবহার করা হবে।

টয়োটার ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের হিউম্যানয়েড রোবট রিসার্চ ইউনিটের প্রধান তোমোহিরো নোমি বলেন, একটি অনিশ্চিত পরিবেশে রোবট কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নেয়, তা পরীক্ষা করার জন্য বাস্কেটবল অ্যারেনা একটি দারুণ জায়গা।

CUE7-এর এই সাফল্য কেবল খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। এই একই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ঘরবাড়িতে মানুষের সেবা করা রোবট, কারখানার অ্যাডাপ্টিভ রোবট এবং প্রতিকূল পরিবেশে চলাচলে সক্ষম উন্নত যানবাহন তৈরিতে সাহায্য করবে। সহজ কথায়, টয়োটা কেবল রোবটকে বাস্কেটবল খেলা শেখাচ্ছে না, বরং মেশিনকে শেখাচ্ছে কীভাবে মানুষের মতো অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়।

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত