পৃথিবীতে জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলগুলোর উৎস নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক প্রশ্নের নতুন ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। নাসার সহায়তায় পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণের জন্য অপরিহার্য নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের বেশির ভাগই সৌরজগতের ভেতরের অঞ্চল থেকে পৃথিবীতে এসেছে। গবেষণাটি আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই মৌলগুলোর বিস্তার ও বণ্টনে বৃহস্পতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বিশেষভাবে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ পরিচিত সব ধরনের জীবনের অস্তিত্বের জন্য এই দুটি মৌল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকেরা বিভিন্ন উল্কাপিণ্ডে ফসফরাস ও নাইট্রোজেনের অনুপাত বিশ্লেষণ করে প্রায় সাড়ে ৪৫০ কোটি বছর আগে তরুণ সৌরজগতে এসব মৌলের গতিপথ ও বণ্টনের ইতিহাস অনুসন্ধান করেছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, নবীন সূর্যকে ঘিরে থাকা গ্যাস ও ধুলিকণার বিশাল মেঘ থেকেই সৌরজগতের জন্ম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব উপাদান একত্রিত হয়ে গ্রহ, উপগ্রহ এবং শেষ পর্যন্ত জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলে।
গবেষণায় দুটি ধরনের উল্কাপিণ্ড ধাতব উল্কাপিণ্ড ও কনড্রাইট পরীক্ষা করা হয়েছে। ধাতব উল্কাপিণ্ড এসেছে সৌরজগতের প্রথম প্রজন্মের ক্ষুদ্র জ্যোতিষ্ক থেকে, আর কনড্রাইটের উৎপত্তি দুই থেকে তিন মিলিয়ন বছর পরে গঠিত দ্বিতীয় প্রজন্মের জ্যোতিষ্কে।
পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং ভূ-রাসায়নিক মডেল ব্যবহার করে গবেষকেরা দেখতে পান, প্রথম প্রজন্মের জ্যোতিষ্কগুলোর ক্ষেত্রে সৌরজগতের বাইরের অঞ্চলে ফসফরাস-নাইট্রোজেন অনুপাত তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে দ্বিতীয় প্রজন্মের জ্যোতিষ্কে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং ভেতরের অঞ্চলেই এই অনুপাত বেশি দেখা যায়।
গবেষকদের ধারণা, বৃহস্পতি ধীরে ধীরে গঠিত ও আকারে বড় হওয়ার সময় তার শক্তিশালী মহাকর্ষীয় প্রভাব ভেতরের অঞ্চল থেকে বাইরের দিকে মৌলগুলোর স্থানান্তর সীমিত করে দেয়। এর ফলে সৌরজগতের ভেতরের অংশে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ নাইট্রোজেন ও ফসফরাস রয়ে যায়।
হিউস্টনের রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রাজদীপ দাশগুপ্তের মতে, পৃথিবীর মতো বাসযোগ্য জগত গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলগুলোর বণ্টন নির্ধারণে বৃহস্পতির উপস্থিতি এবং তার বিকাশের ইতিহাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
গবেষণার প্রধান লেখক দেবজিত পাঠক বলেন, গবেষণার ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে পৃথিবী তার অধিকাংশ প্রাণ-সহায়ক নাইট্রোজেন ও ফসফরাস সৌরজগতের ভেতরের অঞ্চল থেকেই পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে সৌরজগতের বাইরের অঞ্চল থেকে বড় ধরনের অবদান প্রয়োজন হয়নি।