মার্চের শুরুতে দেখা যাবে ব্লাড মুন

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৫ এএম

আগামী ৩ মার্চ ভোরে এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। এদিন পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ায় পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে, যার ফলে চাঁদ ধারণ করবে তামাটে লাল বা রক্তিম বর্ণ—যাকে বিজ্ঞানীরা 'ব্লাড মুন' বা 'রক্তাভ চাঁদ' বলে অভিহিত করেন। উত্তর আমেরিকা ছাড়াও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, অস্ট্রেলিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশ থেকে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।

কেন চাঁদ লাল দেখায়?

চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী যখন সূর্য ও চাঁদের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করে, তখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের নীল আলো বিকিরণ করে দেয় এবং কেবলমাত্র লাল ও কমলা রঙের তরঙ্গগুলো চাঁদের গায়ে পৌঁছাতে দেয়। এর ফলে চাঁদ পুরোপুরি অন্ধকার না হয়ে অনেকটা সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের মতো লালচে আভা ধারণ করে।

গ্রহণের সময়সূচি (আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী)

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩ মার্চ ভোরে এই গ্রহণ শুরু হবে। এর মূল পর্যায়গুলো হলো:

  • আংশিক গ্রহণ শুরু: ভোর ৪:৫০ (ইস্টার্ন টাইম)।
  • পূর্ণ গ্রহণ (টোটালিটি): শুরু হবে ভোর ৬:০৪ মিনিটে এবং স্থায়ী হবে সকাল ৭:০৩ পর্যন্ত।
  • সমাপ্তি: সকাল ৯:২৩ মিনিটে চাঁদ পৃথিবীর ছায়া থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসবে।

দেখার নিয়ম ও সতর্কতা

সূর্যগ্রহণের মতো চন্দ্রগ্রহণ দেখতে বিশেষ কোনো চশমা বা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না। খালি চোখেই নিরাপদে এই দৃশ্য উপভোগ করা যাবে। তবে বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ থাকলে চাঁদের পৃষ্ঠের রঙের পরিবর্তনগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব। শহরের উজ্জ্বল আলো থেকে দূরে অন্ধকার কোনো জায়গা থেকে এই গ্রহণ সবচেয়ে ভালো দেখা যাবে।

অন্যান্য বিশেষত্ব

চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের তীব্র উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ায় রাতের আকাশে নক্ষত্রগুলো আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গ্রহণের সময় চাঁদকে সিংহ রাশির (Constellation Leo) অভিমুখে দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকা ও সেন্ট্রাল আমেরিকার মানুষ ভোরে সূর্যোদয়ের আগে এবং এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার মানুষ সন্ধ্যার দিকে এই দৃশ্য দেখতে পাবেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত ইউরোপ ও আফ্রিকার মানুষ এবারের এই পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি দেখার সুযোগ পাবেন না।

তথ্যসূত্র: ম্যাশেবল

SN
আরও পড়ুন